বাংলাদেশ

প্রশাসনে ধীরগতি

বাংলাদেশে নতুন সরকারের অপেক্ষায় ঢিলেঢালা প্রশাসনিক তৎপরতা

  • 5:56 am - February 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১১৬ বার
নতুন সরকারের অপেক্ষায় ঢিলেঢালা প্রশাসনিক তৎপরতা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি ও এক ধরনের ঢিলেঢালা ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোতে নিয়মিত কাজ চললেও বড় সিদ্ধান্ত, নীতিগত উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমে গতি কমেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের পথে থাকায় এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অপেক্ষায় অনেক কর্মকর্তা রুটিন কাজের বাইরে বাড়তি ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটও হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরকারের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের প্রায় সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ফলে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ফাইল নিষ্পত্তির গতি কমেছে, অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি সইয়ের অপেক্ষায় পড়ে আছে। নিয়মিত সভা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হারও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণ বা বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

সচিবালয়ের একাধিক মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে দৈনন্দিন কাজ চলছে ঠিকই, তবে আগের মতো তৎপরতা নেই। কর্মকর্তারা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে অনেক ক্ষেত্রেই অপেক্ষার নীতি গ্রহণ করছেন। চলমান কিছু সংস্কার কার্যক্রমও গতি হারিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে নির্বাচনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রুটিন কাজ চললেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সামনে নির্বাচন থাকায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত থাকতে হওয়ায় কাজের চাপ একদিকে বেড়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে প্রশাসনিক গতি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মাঠ প্রশাসনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারসহ ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনের বড় অংশ এখন নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় সব দপ্তরের অগ্রাধিকার তালিকায় এখন নির্বাচনী কাজ শীর্ষে। নিয়মিত সভা, পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ না হলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে সম্পন্ন হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বই এখন প্রথম অগ্রাধিকার। এ কারণে অন্যান্য কাজ কিছুটা ধীরগতির হয়ে গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বন্ধ নেই। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সব কাজই চলমান রয়েছে। কোনো কাজ বন্ধ নেই। কাজের ধরন অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনসহ সব প্রশাসনিক দায়িত্বই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, সারা দেশ এখন নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন শেষে একটি নিয়মিত সরকার দায়িত্ব নেবে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের মনোযোগ নির্বাচনের দিকে থাকা স্বাভাবিক। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া মনে করেন, নির্বাচন শেষে প্রশাসনে পরিবর্তন আসতে পারে এমন ধারণা থেকেই অনেক কর্মকর্তা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বহাল থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাও কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন রুটিন প্রশাসনিক কাজ নিয়মিতভাবে চালিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রশাসনিক শিথিলতার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে এবং এতে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই জনগণের সেবা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

এই শাখার আরও খবর

এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…

ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার দাবি, নতুন করে উত্তেজনা

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়,…

জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের  ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…

কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au