মেলবোর্ন,২ ফেব্রুয়ারি–যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কথা বলে ইরানি জাতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে এসব হুমকিতে ইরান বিচলিত হবে না। তার ভাষায়, “তারা বলে জাহাজ এনেছে, বাহিনী মোতায়েন করেছে। এসব দিয়ে ইরানি জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তেহরান কখনোই কোনো দেশের ওপর আগ্রাসন চালাতে চায় না। কিন্তু কেউ যদি ইরানি জাতির ওপর হামলা চালায় বা হয়রানি করে, তাহলে তার জবাব হবে কঠোর ও প্রতিশোধমূলক। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জাতি শক্ত আঘাত হানবে।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। পরমাণু চুক্তিতে ইরানকে ফেরানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ এবং ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরি এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ মোতায়েন রয়েছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি কোনো পক্ষই। তেহরান জানিয়েছে, তারা ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা যেন ইরানের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে না হয়। অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে কথা বলছে’ এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সম্ভাব্য আলোচনার আয়োজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি এমন একটি চুক্তি হবে, যেখানে কোনো পরমাণু অস্ত্র থাকবে না এবং যা সবার জন্য সন্তোষজনক হবে।”
এদিকে ইরানে গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো পরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়। সরকার কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে অস্থিরতা-সংক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খামেনি এসব বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থিত একটি ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এই অস্থিরতার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী কেন্দ্রগুলোর ওপর আঘাত হানা।
সুত্রঃ রয়টার্স