সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিতে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে
গত এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাইফ গাদ্দাফির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন গাদ্দাফির ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে বিদ্রোহের মুখে তার পিতার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন, তবে পরবর্তীতে মুক্তি পান। বাবার শাসনামলে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে না থাকলেও নীতিনির্ধারণে তার বড় ধরনের প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় লিবিয়ার তুলনামূলক পশ্চিমাপন্থি ও সংস্কারমুখী মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। অনেকেই তাকে গাদ্দাফির সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখতেন। তবে ২০১১ সালের পর তিনি দীর্ঘ সময় বন্দিত্ব ও আত্মগোপনে ছিলেন।
মুক্তির পর ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যুদ্ধাপরাধের মামলায় পূর্বে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
গাদ্দাফি সরকারের সময় সাইফ আল-ইসলাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেন।
চার দশকের বেশি সময় ধরে লিবিয়া শাসন করা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যাকাণ্ড সেই অস্থিরতার নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au