লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে সরকার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বাংলাদেশে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর সেই সংকটের বাস্তব চিত্র ও সরকারি হিসাবে বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবির কথা জানান। সরকারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি ডলার দাবি করছি। ভবিষ্যতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’ তার এই মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউস ও শিক্ষাঙ্গন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় হার্ভার্ড কিছুটা ছাড় আদায় করতে পেরেছে এবং আগের দাবি শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কয়েক গুণ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, হার্ভার্ডসহ দেশের বেশ কয়েকটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় তথাকথিত উদারপন্থী বা ‘ওক’ রাজনৈতিক মতাদর্শের বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ চলাকালে ক্যাম্পাসে ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথে হাঁটছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ মূলত উদারপন্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। তারা বলছেন, মতাদর্শগত বিরোধ থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন খর্ব করতে চাইছে।
এর আগে আইভি লিগের আরেক প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় এবং ভর্তি ও নিয়োগে জাতিগত পরিচয় বিবেচনায় না নেওয়ার সরকারি নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গীকার করে।
গত সোমবার নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হার্ভার্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসন আগের ২০ কোটি ডলারের দাবিতে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই খবরের বিরোধিতা করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ৫০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে একটি বাণিজ্য স্কুল চালুর প্রস্তাবও ছিল।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে সেই প্রস্তাব বিবেচনা করা হলেও পরে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। তিনি বলেন, হার্ভার্ড নগদ অর্থের পরিবর্তে একটি জটিল কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে দায় এড়াতে চেয়েছিল। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি যে ধরনের ‘বেআইনি কাজ’ করেছে, তার তুলনায় প্রস্তাবিত অর্থ খুবই কম।
তবে হার্ভার্ড ঠিক কোন আইন ভঙ্গ করেছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বা তার প্রশাসন এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের প্রভাব ইতিমধ্যে অন্যান্য আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা যাচ্ছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে নারী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হার্ভার্ডকে ঘিরে এই বিরোধ কেবল একটি ক্ষতিপূরণ দাবি নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিতর্কেরই অংশ।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au