সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের মুখে থাকা ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পথে হাঁটছে গ্রিস। অস্ত্র ক্রয়েই সীমাবদ্ধ না থেকে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার দিকেও এগোতে চায় দেশটি। গ্রিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতই মিলছে।
গ্রিসের পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাঞ্জেলোস সিরিগোস আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় ক্রেতা বর্তমানে গ্রিস। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে যাচ্ছে যৌথ উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় ঘনিষ্ঠ সমন্বয়।
এই সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে আসছে, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক সমালোচনা ও গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই গত ৪ ডিসেম্বর গ্রিসের প্রতিরক্ষাবিষয়ক কমিটি ৭৬ কোটি ডলারে ইসরায়েল থেকে ৩৬টি পুলস রকেট আর্টিলারি সিস্টেম কেনার অনুমোদন দেয়। এটিই এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে গ্রিসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রয়।
এই মাঝারি পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রিসের বহুল আলোচিত ‘শিল্ড অব অ্যাকিলিস’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে স্তরভিত্তিক এই প্রতিরক্ষা প্রকল্পটি গত বছর ঘোষণা করা হয়। সিরিগোস জানান, যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে প্রকল্পের বাকি বাজেটও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা হতে পারে।
যদিও গ্রিস জার্মানির নেতৃত্বাধীন ইউরোপিয়ান স্কাই শিল্ড ইনিশিয়েটিভের সদস্য, তবে জার্মান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। বরং গত মাসে গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের রাফায়েল এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি স্পাইডার, বারাক ও ডেভিডস স্লিং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি আলোচনা কমিটি গঠন করেছে। এসব চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো।
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার এই তিনটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হলে ‘শিল্ড অব অ্যাকিলিস’ প্রকল্প পূর্ণতা পাবে বলে মনে করছে এথেন্স। গ্রিস ও ইসরায়েল সরকার-থেকে-সরকার পর্যায়ে এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রিক দৈনিক কাথিমেরিনির প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক ভাসিলিস নেদোসের মতে, খোলা দরপত্র আহ্বান করলে একাধিক দেশ প্রস্তাব দেবে, যা গ্রিস এড়িয়ে যেতে চায়। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল সরাসরি প্রযুক্তিগত সুবিধা দিতে আগ্রহী থাকে, কিন্তু অন্য সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে এসব সুবিধা আলাদা করে দরকষাকষির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই গ্রিস কোনো দীর্ঘ দরকষাকষিতে না গিয়ে সরাসরি ইসরায়েলের সহযোগিতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au