৯ গোলের রোমাঞ্চে কাঁপল প্যারিস, বায়ার্নকে হারাল পিএসজি
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে ফরাসি জায়ান্ট…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ব্যবধান বাংলাদেশের রফতানি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার রফতানিনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে মধ্যম ঝুঁকির স্তরে। তবে তৈরি পোশাকনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতায় এই অবস্থান স্বস্তির নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের ওপর পাল্টা শুল্ক ব্যবধান সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ। দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে এই চাপ তৈরি হলেও এর প্রভাব পড়ছে পুরো এশিয়ার রফতানি কাঠামোয়। বিশেষ করে চীনের ওপর চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের ওপর পাল্টা শুল্ক ব্যবধান সবচেয়ে কম, ১৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক এবং একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ১৯ শতাংশ, যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাজার প্রবেশসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা শুল্কচাপ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ওপর পাল্টা শুল্ক ব্যবধান ২০ শতাংশ। তৈরি পোশাকনির্ভর এই দুই দেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তুলনামূলকভাবে ভিয়েতনাম এগিয়ে আছে। শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, বিস্তৃত এফটিএ নেটওয়ার্ক ও বহুমুখী রফতানি কাঠামো দেশটিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। বিপরীতে বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তৈরি পোশাক উৎপাদক দেশ হলেও বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। উৎপাদন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা, দীর্ঘ লিড টাইম ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা বাজার ধরে রাখাকে কঠিন করে তুলছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীন বাদ দিলে বাংলাদেশ এখনও বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বড় ও বাল্ক অর্ডার সামলানোর সক্ষমতা দেশের বড় শক্তি হলেও রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ পোশাক খাত থেকে আসায় এই নির্ভরতাই আবার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে এখন ছোট অর্ডার, দ্রুত ডেলিভারি ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও মূলত বেসিক ও মিড-ক্যাটাগরির বাল্ক অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল। কাঁচামালের বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করতে হওয়ায় লিড টাইম বাড়ে, যা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দেয়।
২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিক বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ এখনো খুব সীমিত সংখ্যক চুক্তিতে এগোতে পেরেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান ভবিষ্যতে রফতানি প্রতিযোগিতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের মোট রফতানি আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি সামান্য বেড়েছে। প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৫২২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। বিপরীতে ইউরোপের বড় বাজার জার্মানিতে রফতানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।
রফতানি খাতের নেতিবাচক প্রবণতার পেছনে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন শিল্প নেতারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে নতুন বাজার খোঁজা, শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়া, অবকাঠামো ও লজিস্টিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি গ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের রফতানি খাতের জন্য সামনে পথ কঠিনই থেকে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au