সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের তদন্ত ও নথি প্রকাশের পর দেশটির সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিচার বিভাগের পর্যালোচনা শেষ হলেও কংগ্রেসের তদন্ত, ভুক্তভোগীদের অসন্তোষ এবং নতুন তথ্য প্রকাশের দাবিতে এপস্টিন ইস্যু এখনও মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, যিনি পূর্বে প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামে পরিচিত ছিলেন, জেফরি এপস্টিনের সাথে তার সম্পর্কের জন্য সমালোচিত হয়েছেন, ছবিঃ বিবিসি
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মতে এখন “অন্য কিছুর দিকে দেশের এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।” তিনি আবারও দাবি করেন, এপস্টিন–সংক্রান্ত কোনো অনিয়মে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ নথি প্রকাশ করে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে শুরু হওয়া এই নথি পর্যালোচনায় নতুন করে কাউকে অভিযুক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯০-এর দশকে একটি পার্টিতে ট্রাম্প ও এপস্টিনকে একসঙ্গে দেখা যায়, ছবিঃ বিবিসি
ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিপুল পরিমাণ ইমেইল, চিঠিপত্র ও ছবি থাকলেও সেগুলো ফৌজদারি অভিযোগ আনার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বিচার বিভাগের এই অবস্থান সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদে এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্ত থামেনি। কংগ্রেস এরই মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সাক্ষ্য দিতে তলব করেছে।
একই সঙ্গে আরও কিছু অপ্রকাশিত নথি সামনে আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এপস্টিনের ভুক্তভোগী ও কংগ্রেসের একাংশ বলছে, বিচার বিভাগ সব তথ্য প্রকাশ করেনি এবং নির্ধারিত সময়সীমাও মানা হয়নি।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও। প্রকাশিত নথিতে তার নাম ছয় হাজারের বেশি বার এসেছে, যদিও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো সরাসরি তথ্য সামনে আসেনি। ট্রাম্পের দাবি, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০ সালের শুরুর দিকেই শেষ হয়ে যায়।
তবে এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে নাম উঠে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে পেশাগত ও রাজনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনসহ বেশ কয়েকজনের ক্যারিয়ারে এই ইস্যু বড় ধাক্কা দেয়। বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালীরাও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ না পাওয়ার অর্থ হতে পারে— বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু তথ্য গোপন করেছে। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার প্রশ্ন তুলেছেন, সব নথি প্রকাশ করা হয়েছে কি না এবং ট্রাম্পের নাম থাকা প্রতিটি নথি আদৌ জনসমক্ষে এসেছে কি না।
এপস্টিনের এক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস বলেন, বিচার বিভাগের পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট নন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যতই এই অধ্যায় শেষ করার কথা বলুন না কেন, কংগ্রেসের তদন্ত, সম্ভাব্য নতুন তথ্য প্রকাশ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এপস্টিন ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি থেকে সহসা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au