চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের জন্য অবৈধভাবে তৈরি ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি সিল তৈরির নির্দেশদাতার নামও প্রকাশ করেছেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামির নাম সোহেল রানা (৪০)। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে মারইয়াম প্রেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোন জব্দ করে। এ সময় সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে তিনি সিলগুলো তৈরি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারি শরীফ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিল তৈরির অর্ডার দেন। পরে সেই নির্দেশ অনুসারে তিনি সিলগুলো প্রস্তুত করেন।
স্বীকারোক্তিতে নাম আসা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। তিনি একই ওয়ার্ডের মো. শাহজাহানের ছেলে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই সৌরভ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সৌরভকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সৌরভ নাকি ভোটারদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বোঝানোর জন্য এসব সিল তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি একটি দায়িত্বহীন কাজ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যাঁর প্রেস থেকে সিল উদ্ধার হয়েছে, তিনি জামায়াতের কোনো নেতা বা কর্মী নন।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোহেল রানা গ্রেপ্তারের দিনই লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলন করেন। নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিলসহ যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, একটি কম্পিউটারসহ ছয়টি সিল জব্দ করা হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় এর পেছনে পরিকল্পিত নির্বাচন প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ কাজ করেছে।
বিএনপির এই বক্তব্যের জবাবে একই দিন রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। সেখানে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার করছে।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উদ্ধার হওয়া সিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দুটি সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রথমত, সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়ার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল কি না। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপারে সিল মারার মাধ্যমে ভোট কারচুপি বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর সিল তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা আলামতগুলো বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au