চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
পলাতক আট আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিদের একজন এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন এবং শহীদদের পরিবার ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এই ঘটনায় সাতজন নিহত হন। তারা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। পরে ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য দেয় এবং এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় মানবতার ইতিহাসে বিরল এক বর্বর ঘটনা ঘটেছে। ছয়জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করার পর তাদের লাশ গাড়িতে তুলে খড়ি-কাঠ ও পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তার ভাষায়, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনাস্থলের সাক্ষ্যপ্রমাণে অপরাধ কাচের মতো স্বচ্ছভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত একজনসহ পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তুলে একপর্যায়ে সেই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং পরে মোট সাতজন নিহত হন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au