বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় অংশ নিতে পারছে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। ঢাকার একটি আদালত গত বছর বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকারের অভিমত।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা ছিলেন তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিপক্ষ।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটির পুনরুত্থান নির্বাচনী মাঠে সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা তুললেও তারেক রহমান সে প্রস্তাবে অনীহা প্রকাশ করেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দল থাকবে কে—এই প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে জামায়াত বিরোধী দলে গেলে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে অগ্রাধিকার। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা অংশীদার জনগণের জন্য কার্যকর প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে একতরফা ঝুঁকে পড়ার নীতি গ্রহণ করা হবে না—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী অঙ্কে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনের সংসদে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের প্রত্যাশা তাদের। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে রয়েছে জোট শরিকেরা। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান, তিনি বলেছেন সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন বিএনপি পাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।