আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় জামায়াতে ইসলামী হিন্দু ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইসলামপন্থি দল হিসেবে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে জামায়াত উদারনীতির ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেক ভোটার মনে করছেন, ধর্ম নয়, বরং এলাকার বাস্তব সমস্যা—যেমন পানির অভাব, বেকারত্ব ও অবকাঠামোর দুরবস্থা—যারা সমাধান করতে পারবেন, শুধু তাদেরকেই তারা ভোট দেবেন।
খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-১ আসনটি দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। স্বাধীনতার পরও অধিকাংশ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে জামায়াত কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না, তাই ভোটারদের পছন্দ কী হবে তা অনিশ্চিত।
জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ভোটের আগে বলছেন, “নির্বাচনে বিজয়ী হলে সংসদে গিয়ে আড়াই কোটি হিন্দুর হয়ে কথা বলব।” অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, খুলনার ছয় আসনে তাদের বিজয় নিশ্চিত। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, দুইটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও বিজয় তাদেরই হবে।
খুলনা-১ আসনের ভোটাররা মূলত পানির সমস্যার সঙ্গে জর্জরিত। দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভা ও সাত নম্বর ইউনিয়নের কাঁকড়া বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা গ্রীষ্মকালে লবণাক্ত নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য। অনেক বাড়িতেই রান্না ও খাবার পানি সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ট্যাংক বা মাটির ঘড়া দেখা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, ভোটে তারা সেই প্রার্থীকে বেছে নেবেন, যিনি এলাকার পানির সমস্যা সমাধান করবেন। জলি বেগম নামে একজন গৃহিণী বলেন, “ভোট আসে আর যায়, কিন্তু পানির সমস্যা সমাধান হয় না। সারাবছর পানি কিনে খেতে হয়।”
খুলনার ছয় আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি এবং জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ভোটের মাঠে রয়েছেন। এক সময়ের মিত্র জামায়াত এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, খুলনা সদরসহ চারটি আসনে তাদের জয় নিশ্চিত। তবে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক এবার কার কাছে যাবে তা নির্বাচনের ফলাফল জানাবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত কয়েক মাসে কিছুটা অস্থির হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা জানান, প্রশাসন ও পুলিশ পর্যাপ্ত আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশে আরো কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি জুটমিল এবং অন্তত ২৬টি শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় খুলনায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
খুলনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ভোটার হিসাবেও খুলনায় বড় পরিবর্তন এসেছে, নতুন ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় আট লাখ। ফলে ভোটারদের চাহিদা, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রার্থীদের কৌশল মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফলের সমীকরণ এবারের নির্বাচনে জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au