নির্বাচন কমিশন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির নাম পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট বা পাশা। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংস্থাটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও কার্যক্রম নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে যমুনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নির্বাচন কমিশনের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পাশা নামের সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আসে।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, পাশা নামের একটি এনজিও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিল যে তারা ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিতে সক্ষম। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়ার পর সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো, জনবল এবং বাস্তব সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে আপাতত তাদের জন্য পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত সংস্থাটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার একটি দৈনিক পত্রিকায় পাশা সংস্থাকে ঘিরে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে একজন ব্যক্তিনির্ভর সংগঠন হিসেবে পাশার পরিচয় তুলে ধরে দাবি করা হয়, এই সংস্থাটি ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক সরবরাহ করতে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘পাশা দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক’। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে এবং আপাতত পাশার পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।