মেলবোর্ন ৯ ফেব্রুয়ারি- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে দেশের পাঁচটি পেশাজীবী সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিবেশ বর্তমানে অনুপস্থিত।
ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে মোট ১ হাজার ৬৭৫ জন পেশাজীবী স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১৩৬ জন সাংবাদিক, ১১১ জন চিকিৎসক, ২৬২ জন প্রকৌশলী, ৪০১ জন কৃষিবিদ এবং ৭৬৫ জন আইনজীবী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন নয়। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে একটি রাজনৈতিক প্রহসনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পেশাজীবী সংগঠনগুলো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
যৌথ বিবৃতিতে বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই সরকারের অধীনেই নতুন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বানও জানানো হয় বিবৃতিতে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। এই নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের অনুমতি পায়নি। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনাও এই নির্বাচনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন।