কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে পল কাপুরের সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রাথমিকভাবে ৬ থেকে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনীত করেন। পরে মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে এই মনোনয়ন অনুমোদন পায় এবং গত অক্টোবরে তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।
গত বছরের জুনে সিনেটের শুনানিতে পল কাপুর বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিতীয় বৃহত্তম। দায়িত্ব পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন।
পল কাপুরের মতোই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও তাঁর নিয়োগ-সংক্রান্ত শুনানিতে চীনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। গত মাসে ঢাকায় প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্দিষ্ট কিছু খাতে চীনের সঙ্গে যুক্ত থাকার ঝুঁকির বিষয়টি তিনি অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সিনেটে ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্ট’ পাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণার পর চীনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের পর পল কাপুর ঢাকায় এলে নতুন সরকারের কাছে হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীননীতি পরিষ্কারভাবেই তুলে ধরবেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসননীতি ও ভিসা বন্ডের মতো পদক্ষেপে ট্রাম্প যেভাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন, তাতে চীন প্রশ্নেও তাঁর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ২০২০–২১ সালে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন।
এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজ থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।