শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটির পদত্যাগ
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- সরকারের নির্দেশনার পর পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড–এর বর্তমান কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশেষ সভা ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান…
মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি-বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বহির্বিশ্বের চোখে এক পরিচিত রাজনৈতিক নাটকের পুনরাবৃত্তি-যেখানে মধ্যপন্থী জাতীয়তাবাদ ও উগ্র ইসলামীপন্থীরা বারবার মুখোমুখি দাঁড়ায়। প্রায় ১২৮ মিলিয়ন ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও দেশের ভেতরে অনেকের প্রশ্ন—আসলেই কি কোনো বাস্তব বিকল্প রয়েছে ।
নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হলো কেন্দ্র-ডানপন্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যারা ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাওয়ার পূর্বাভাস পাচ্ছে। এই দলের নেতৃত্বে আছেন তারেক রহমান। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরেছেন। শীর্ষনেতা হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচনের মাঠে। তবে তাকে নিয়ে ভোটারদের স্মৃতি আরও গভীর- ৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকে ক্ষমতায় থাকাকালীন তার মা খালেদা জিয়ার শাসনাধীনে দুর্নীতির রেকর্ড ছিল। যে জন্য তারেক রহমানকেই দায়ী করা হয়।
বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো জামায়াতে ইসলামী। শাফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত হওয়া দল। যদিও শহুরে ভোটাররা তাদের বিশ্বাস করে না, কারণ দলটি কোনো মহিলা প্রার্থী তালিকাভুক্ত করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণহত্যা চালিয়েছে। তবে গ্রামে ধর্মীয় কারণে তাদের কিছুটা সমর্থন রয়েছে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), যে দলটি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী- ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান অস্পষ্ট। যুবনেতা নাহিদ ইসলাম, মাত্র ২৭ বছর বয়সী, দলটির জনপ্রিয়তা সময়ের সাথে কমেছে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটও তাদের সমর্থন ক্ষুণ্ন করেছে।
দেশ পরিচালনা করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ ইউনুস, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি সংবিধান সংস্কারের চেষ্টা করছেন, তবে বাস্তব রাজনীতিতে এগুলো কতটা কার্যকর হবে তা অনিশ্চিত।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও ম্লান। খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৩ শতাংশ, বন্যায় ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত, এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারতীয় কোম্পানির বিল সমস্যার সৃষ্টি করছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং নির্বাচনী অনিশ্চয়তা দেশে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলন তার সরকারের পতনের পথ প্রস্তুত করেছিল। শ্রমিক ও অভিবাসী কর্মীদের অবহেলা, প্রায়শই মৃত্যু বা নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছিল।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনবে না। বিএনপি জিতুক বা জামায়াতের উত্থান হোক, ক্ষমতার হস্তান্তর হতে পারে, তবে দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি — সস্তা শ্রম, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অর্থ পাচার, মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা — অব্যাহত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au