শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটির পদত্যাগ
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- সরকারের নির্দেশনার পর পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড–এর বর্তমান কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশেষ সভা ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান…
মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছে পরিবার। সরকারের ঘোষিত ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিক্রিয়ায় দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেছেন, অর্থ নয়—তারা চান হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
বুধবার তিনি বলেন,
“৫০ লাখ টাকা কেন, সারা দুনিয়ার টাকা এনে দিলেও আমার ছেলের অভাব পূরণ হবে না। আমি শুধু চাই, হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে। এমন শাস্তি হোক, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়।”
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি পরিবারের প্রতি সরকারের সহমর্মিতা জানান এবং বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীপুর পরিবারের জন্য ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া নগদ সহায়তা হিসেবে দীপুর বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআরও করা হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন,
“দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই। তার পরিবারের জন্য সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে, তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র অবশ্যই সুবিচার নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“সাম্প্রদায়িক উন্মাদনায় যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই আমাদের এই লজ্জা থেকে মুক্তি দিতে পারে।”
দীপুর বাবা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন দীপু।
“ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে দেশে তো আইন ছিল। সেই আইনে বিচার হতো। আমরা গরিব, তাই ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারিনি,” বলেন তিনি।
হত্যার পর থেকে দীপুর মা ও স্ত্রী চরম মানসিক আঘাতে ভুগছেন।
“ওরা দুজনই খুব অসুস্থ। সারাদিন কান্নাকাটি করে। ঘুমাতে পারে না। নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে হয়,” জানান রবি চন্দ্র দাস।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলছে।
১৯ ডিসেম্বর দীপুর ছোট ভাই অপু দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
দীপু চন্দ্র দাস দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য এক গভীর বেদনার নাম হয়ে উঠেছে। এখন অপেক্ষা—বিচার কত দ্রুত এবং কতটা দৃষ্টান্তমূলক হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au