‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১২ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ। প্রশিক্ষণ, ব্যালট ছাপানো, লজিস্টিক সহায়তা, পরিবহন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, প্রযুক্তি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গণভোট আয়োজন ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পরিচালন ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গণভোট, পোস্টাল ব্যালটসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।
তবে নির্বাচন কমিশনের বাজেট ও ফাইন্যান্স শাখার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকায় উঠবে না। তাঁর ভাষ্য, সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। আপৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজেট সাধারণত বেশি ধরা হয় বলেও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় নয় লাখ সরকারি আদেশ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জেলা কার্যালয় থেকে জমা হলেও সব খরচ হিসাবভুক্ত হয়নি। প্রাথমিক হিসাবে ব্যয় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি নয়, তবে তা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এবার দুই ধাপে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপের বরাদ্দে দৈনিক ভাতা, সরঞ্জাম ভাড়া, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, যানবাহন ব্যবহার, যাতায়াত, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, স্ট্যাম্প ও সিল, ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট চালুর কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। প্রবাসীদের প্রতিটি ব্যালটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা, আর দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে খরচ ২৩ টাকা।
ব্যয়ের পাশাপাশি ভোটার সংখ্যাতেও রেকর্ড গড়েছে এবারের নির্বাচন। মোট নিবন্ধিত ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বরাদ্দ ছিল ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে মোট ব্যয় হয় প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যেখানে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট হয়নি। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে ব্যয় ছিল ১৬৫ কোটি টাকা এবং ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
ক্রমবর্ধমান ভোটার সংখ্যা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে নির্বাচন ব্যয় বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিপুল এই ব্যয় ঘিরে জনপরিসরে আলোচনা ও প্রশ্নও কম নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au