শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটির পদত্যাগ
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- সরকারের নির্দেশনার পর পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড–এর বর্তমান কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশেষ সভা ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান…
মেলবোর্ন, ১২ ফেব্রুয়ারি- সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন মৌলভীবাজারে এক হিন্দু যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের নাম রতন সাহুকার, বয়স ২৮ বছর। তিনি স্থানীয় একটি চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বুধবার সকালে বাগানের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রতনের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের দাবি, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে। তাদের ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ৬২ বছর বয়সী হিন্দু ব্যবসায়ী সুশেন চন্দ্র সরকারকে তার নিজ দোকানের ভেতরে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাতেও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। নরসিংদীতে একটি গ্যারেজে ঘুমন্ত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
রাজবাড়ীতেও এক হিন্দু পেট্রোল পাম্প কর্মচারী নিহত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এক গ্রাহক টাকা পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টা করলে তার গাড়ির চাপায় ওই কর্মচারীর মৃত্যু হয়। পুলিশ গাড়ির মালিক ও চালককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনাটির পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, গত ডিসেম্বর থেকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তত ৫১টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্যের বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এমন একের পর এক হত্যাকাণ্ডে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও গভীর হচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। প্রশাসন বলছে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au