আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১২ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঘটনাবহুল ভোটগ্রহণের পর পুরো বাংলাদেশ ভোটগণনায় ব্যস্ত। এরই মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনার কাজ চলছে। তবে কেউ বলতে পারছে না ঠিক কখন ফলাফল জানা যাবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় ফল পেতে বেশ সময় লাগতে পারে।
এর আগে দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কয়েকটি দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোট চলাকালে কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ককটেল বিস্ফোরণ, জালভোট, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কিছু সহিংসতা এবং কয়েকজন প্রার্থীের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দেন।
যদিও এ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ভোট পড়েনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টিতে ভোটগ্রহণের হিসাব পাওয়া গেছে। ওই সময় পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ। এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ভোট বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে যারা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা ভিড় বাড়তে থাকে। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পুরোপুরি বজায় থাকেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। জালভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে ৫৯টি কেন্দ্রে। তিনটি স্থানে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া ১৪টি স্থানে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে অন্তত ১৩৫ জায়গায়। ছয়জন প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৮টি স্থানে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। চারটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার ৩৩টি অভিযোগও নথিভুক্ত হয়েছে।
ভোটের দিন কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিভিন্ন জেলায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, যদিও বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে। তবে নিহতের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে সেনাসদস্যদের ধাওয়া। আর খুলনায় এক বিএনপির নেতার মৃত্যু হয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের ধাক্কায়।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন। অন্য এক পরিসংখ্যানে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন, যার মধ্যে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র এবং নারী প্রার্থী ৮০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। মোট ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন প্রতিনিধিসহ কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষকরা ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিক মাঠে কাজ করেছেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন সবার দৃষ্টি ফল ঘোষণার দিকে। তবে সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি কী দিকে যায়, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au