ভারতে সি-ফুড কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৭ নারী শ্রমিক
মেলবোর্ন, ২২ জুন- ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুভাল্লুর জেলায় একটি বেসরকারি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে অন্তত সাত নারী শ্রমিক নিহত…
মেলবোর্ন, ১৪ফেব্রুয়ারি- ভারত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’র আঘাতে মাদাগাস্কারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর বৃহস্পতিবার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে বলেছে, আরও ছয়জন নিখোঁজ এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ১২ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
মঙ্গলবার পূর্ব উপকূলীয় শহর তোয়ামাসিনায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। আঘাতের সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। পাঁচ লাখের বেশি মানুষের এই শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। উপড়ে পড়া গাছ, উড়ে যাওয়া ছাদ এবং বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
দেশটির নেতা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তোয়ামাসিনা ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৫০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্লাবিত হয়েছে। অনেক মৃত্যু ঘটেছে ভবন ধসে পড়ায়, কারণ অধিকাংশ বাড়িই শক্তিশালী ঝড় সহনশীল নয়। রাজধানী আন্তানানারিভোর সঙ্গে তোয়ামাসিনাকে যুক্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত।
তোয়ামাসিনার আশপাশের আতসিনানানা অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে।
ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের রিইউনিয়ন দ্বীপ থেকে খাদ্য সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা পরিস্থিতিকে ব্যাপক ধ্বংস ও বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলছে, উপগ্রহ যুগে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি হতে পারে গেজানি। ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় জেরাল্ডার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে, যাতে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
স্থলভাগে আঘাতের পর শক্তি কিছুটা কমলেও ঝড়টি এখনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে সক্রিয়। লা রিইউনিয়নের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মোজাম্বিক চ্যানেলে পৌঁছালে এটি আবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং শুক্রবার সন্ধ্যার পর দক্ষিণ মোজাম্বিকে আঘাত হানতে পারে।
এদিকে মোজাম্বিক কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। ঘণ্টায় প্রবল বাতাস, ১০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ এবং উত্তাল সাগরের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে।
মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক দুই দেশই নিয়মিতভাবে ভারত মহাসাগর থেকে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। গত মাসেই মাদাগাস্কারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি ঝড়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে মৌসুমি ভারি বৃষ্টিতে মোজাম্বিকে ইতিমধ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au