‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই দেশটির সংকটের ‘সেরা সমাধান’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথাই বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি।” তবে ইরানে শাসন পরিবর্তন হলে নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। তার ভাষায়, “সেখানে এমন মানুষ আছেন যারা নেতৃত্ব নিতে পারেন।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এ মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেবে।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। যদিও শেয়ার করা পোস্টে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যোগ করেননি।
গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমন বন্ধ না করলে হামলার হুমকি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠায়। ওই বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই কাঠামোর শীর্ষে রয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তবে পারমাণবিক চুক্তি না হলে হামলার হুমকিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তাদের শুরুতেই আমাদের সঙ্গে সেই চুক্তিটা করা উচিত ছিল। এখনও সেটা করলেই ভালো।” যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার চায়, তেহরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করুক।
ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তারা “অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।”
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা–এর আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এতে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়ে।
গত বছর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের আগে নতুন একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতি—দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন নজর, এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় গড়ায়, নাকি নতুন করে সংঘাতের দিকে যায়।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au