বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি জোটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সরকারের সূচনা পর্বে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলোকেও তালিকায় রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও শ্রমবাজার–সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। একই দিন সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন তাঁদের শপথ পড়াবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ফল ঘোষণার পর থেকেই সরকার গঠন ও শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শপথের আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে একাধিক দেশের সরকারপ্রধানের আমন্ত্রণ নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বার্তা এতে থাকতে পারে। তবে আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে কারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন আর কারা প্রতিনিধি পাঠাবেন, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।