চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ১৬ ফেব্রুয়ারি- সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গত তিন দিনে অন্তত ৩৫টি আসন থেকে লিখিত অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। ইমেইলেও এসেছে একাধিক আবেদন। সব মিলিয়ে সংস্থাটির দপ্তরে অর্ধশতাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তাদের আর কিছু করার সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হবে। সেখানেও প্রতিকার না পেলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই। আদালত নির্দেশ দিলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতটি অভিযোগ জমা পড়েছে তার নির্দিষ্ট হিসাব হয়নি। নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আগে থেকেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার দুপুরে ২৯৭ আসনের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়। একই দিন গভীর রাতে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। গেজেট প্রকাশের আগে কয়েকজন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের ফল স্থগিতের আবেদন জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আসনের পরাজিত প্রার্থীরা ফল প্রকাশে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ইসিতে লিখিত আবেদন দিচ্ছেন। গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগ করে, অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩২টি আসনে অল্প ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে জোটটি।
এর আগে শনিবার ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক লিখিত অভিযোগ দেন। গতকাল ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও পৃথকভাবে আবেদন করেছেন। বিএনপির একজনসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী লিখিত ও ইমেইলে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
শেরপুর-1 আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের বেশিরভাগের বক্তব্য, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন আপত্তি নেই, তবে গণনা ও ফল প্রকাশের সময় কারচুপি হয়েছে। তাদের দাবি, ভোট গণনার সময় এজেন্টদের বের করে দেওয়া, অগ্রিম সই নেওয়া, ফলাফলের শিটে জাল স্বাক্ষর, পেন্সিল দিয়ে লেখা ও ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ব্যালট পেপারে বিভ্রান্তিকর ফাঁকা স্থান রেখে ভোট বাতিলের অভিযোগও উঠেছে। প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ফল কারচুপি করে কমপক্ষে ৩২টি আসনে তাদের প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। কমিশনে দেওয়া অভিযোগে এসব আসনে পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সিল মারার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ ওঠা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।
নির্বাচন-পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au