সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা ও প্রহসনের নির্বাচনের সাক্ষী হয়েছে—যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকবে। এটি জনইচ্ছার নির্বাচন ছিল না; বরং সংখ্যার কারসাজির মাধ্যমে পরিচালিত এক প্রশাসনিক মহড়া।
এই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১২৭,৭১১,৭৯৩ জন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে ঘোষিত উপস্থিতির হার—দুটিতেই গুরুতর অনিয়ম ও অসংগতির লক্ষণ দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত—অর্থাৎ প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায়—ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ, যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৬৮৪টি ব্যালট। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে গড়ে ৯০,৯৭৯টি ভোট পড়েছে। পরের ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপস্থিতি দেখানো হয় ৩২.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এক ঘণ্টায় পড়েছে আরও ১৭.৯২ শতাংশ ভোট—প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৫০টি ব্যালট, যা প্রতি মিনিটে গড়ে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৯টি ভোট। আগের সময়ের তুলনায় এই হার কয়েকগুণ বেশি—যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক।
প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঘণ্টাপ্রতি উপস্থিতির হার যেখানে ছিল ৪.২৭ শতাংশ, সেখানে পরের এক ঘণ্টায় তা দেখানো হয়েছে ১৭.৯২ শতাংশ। দেশের ৩২,৭৮৯টি ভোটকেন্দ্র সক্রিয় থাকলে, প্রতি কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে গড়ে ১১.৬৩টি ভোট পড়ার কথা—অর্থাৎ প্রতি ৫.১৬ সেকেন্ডে একটি ভোট। বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব।
বাংলাদেশের ভোটের ইতিহাস জানেন এমন যে কেউ জানেন, সকালবেলাতেই ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে—বিশেষ করে ১১টার আগ পর্যন্ত। অথচ ওই সময়ে মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ উপস্থিতি দেখানো হলো, আর এক ঘণ্টার মধ্যে হঠাৎ লাফ দিয়ে তা ৩২.৮৮ শতাংশে পৌঁছাল—এটি স্বাভাবিক নয়।
তৃতীয় ধাপে জানানো হয়, দুপুর ২টা পর্যন্ত উপস্থিতি ৪৭.৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে আরও ১৫.০৩ শতাংশ—প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৩টি ভোট যোগ হয়েছে, গড়ে প্রতি মিনিটে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৮টি।
সবশেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে উপস্থিতি দেখানো হয় ৫৯.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আরও ১১.৫৩ শতাংশ—প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৭৭০টি ভোট যোগ হয়েছে, প্রতি মিনিটে গড়ে ৯৮,১৫২টি ভোট। অথচ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু কেন্দ্রে একটি ভোট দিতে দেড় থেকে প্রায় তিন মিনিট সময় লেগেছে। সময়ভিত্তিক এই পরিসংখ্যান বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপস্থিতির অস্বাভাবিক উল্লম্ফনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত মোট উপস্থিতি দেশের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—বহু কেন্দ্রে ভোটার শূন্যতা, বুথ নিষ্ক্রিয় থাকা এবং ভোটার অনুপস্থিতির খবর এসেছে। প্রায় ৮৬ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজারের মতো (প্রায় ৩ শতাংশ)। প্রবাসী আনুমানিক দেড় কোটি ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ (প্রায় ৭ শতাংশ)। এই প্রেক্ষাপটে প্রায় ৬০ শতাংশ উপস্থিতির দাবি অবাস্তব—হাস্যকর।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সরকারি যন্ত্রপাতি সরাসরি “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ব্যবহৃত হয়েছে। সরকার নিজেই প্রকাশ্যে “হ্যাঁ” প্রচারের দায়িত্ব নেয়। ব্যালটে “হ্যাঁ”-র পাশে টিক চিহ্ন ও “না”-র পাশে ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল ভোটারকে প্রভাবিত করার এক স্পষ্ট মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। ফলাফল শিটে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বাইরে অন্য কারও স্বাক্ষর না থাকা স্বচ্ছতার অভাবকে আরও স্পষ্ট করে। জাতীয় নির্বাচনের ফল ১৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা হলেও একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের আসনভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়নি; বরং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে গণভোটের ফল জানানো হয়। অংশগ্রহণের সংখ্যাগত অসংগতি ও ফল প্রকাশে বিলম্ব জনমনে ভোট কারচুপির স্পষ্ট ধারণা সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচন কমিশন কি তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে, নাকি পূর্বনির্ধারিত ফলের সঙ্গে মিলিয়ে সংখ্যা সাজিয়েছে? এই প্রশ্ন আজ সমাজের সব স্তরে উঠছে—এটি প্রাসঙ্গিক ও ন্যায্য।
এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করেনি; বরং জনমনে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর করেছে। বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঘোষিত ফল কখনোই দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারে না।
ভোটের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অস্ত্র উদ্ধার, ভোট কেনাবেচা ও গ্রেপ্তারের খবর আসে। ওই সন্ধ্যাতেই কেন্দ্র দখল, আগাম ব্যালটে সিল মারা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেন। বহু ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন—তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। কোথাও চার-পাঁচজন নারী একসঙ্গে কক্ষে বসে ব্যালটে সিল মারছেন, কোথাও পুরুষদের একই কাজ করতে দেখা গেছে। শত শত আগাম সিল মারা ব্যালট উদ্ধার হয়। কোথাও একই প্রার্থীর একাধিক পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে। আগের রাতে ফলাফল শিট প্রস্তুত ও এজেন্টদের স্বাক্ষর আগাম নেওয়ার চেষ্টার খবরও এসেছে।
ভোটের দিন দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, জাল ভোট, গণনায় অনিয়ম এবং কোথাও কোথাও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাই নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি স্বেচ্ছায় দুটি নির্বাচন বর্জন করে এবং অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়—যার ফলে বহু প্রাণহানি ঘটে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করেনি; বরং অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ও জোরপূর্বক এই নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবু আওয়ামী লীগ সহিংস প্রতিরোধ বা ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির ডাক দেয়নি। জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে একতরফা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানানো হয়, এবং মানুষ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তাই অবৈধ মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের অধীনে উপস্থিতির হার কারসাজি করে বাড়াতে হয়েছে।
এই অবৈধ ইউনূস প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত কারচুপিপূর্ণ ও একতরফা নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। সুতরাং আজ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি—ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক এই নির্বাচন বাতিল করা হোক; হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগ নিশ্চিত করা হোক; সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক বন্দি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মুক্তি দেওয়া হোক; আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক; এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক
শেখ হাসিনা
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতি,…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের যুদ্ধ ধীরে ধীরে এক উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর সংঘাতে রূপ নিয়েছে। আকাশজুড়ে গুপ্তচর ও হামলাকারী ড্রোনের ঝাঁক নিয়মিত উড়তে…
মেলবোর্ন,৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে…
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক অনন্য, অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই…
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত এখন শুধু একটি আঞ্চলিক সামরিক সংকট নয়; এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব…
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au



