আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ইসলামপন্থী দল জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে উঠে এসেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ৭৭টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে তারা কখনও ১৮টির বেশি আসন পায়নি। ছাত্রনেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং বাকি আসনগুলো গেছে ছোট দলগুলোর ঝুলিতে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২টি আসনে জয় পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। তিনি দেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।
বাংলাদেশের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোতে বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহ করা হয়। ফলে নতুন সরকার এই অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রথমে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও পরে ফলাফল মেনে নেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সামগ্রিক ফলাফল তারা স্বীকার করছেন এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। পাশাপাশি তারা নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন বলে জানান।
দীর্ঘদিন প্রান্তিক রাজনীতি থেকে বড় উত্থান
জামায়াতের এই ফল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ দলটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। সে সময় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যদিও জামায়াত বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার হয়। কেউ মৃত্যুদণ্ড, কেউবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। দলটি এসব বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।
জামায়াত বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধও হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করে। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং দলটি আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আইন অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান বলেন, দেশের তরুণ ভোটাররা অতীতের রাজনীতি নিয়ে কম আগ্রহী। তারা ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। তার মতে, জামায়াত বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেই অনেক তরুণ ভোটার তাদের দিকে ঝুঁকেছে। তবে ১৯৭১ সালের ইতিহাসের বোঝা না থাকলে দলটি আরও বেশি আসন পেতে পারত বলেও তিনি মনে করেন।
শফিকুর রহমান বলেছেন, ৭৭টি আসন পেয়ে তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছেন। এটি ব্যর্থতা নয়, বরং ভবিষ্যতের ভিত্তি।
সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম হলেও সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোকে সম্মান করবে।
নির্বাচনে জামায়াত একজন হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। দলীয় আমির প্রকাশ্যে বলেছেন, কোনো নারী দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।
স্বাধীন বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ মনে করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস আছে এবং তা কেবল আদর্শগত কারণে নয়, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কারণেও ঘটে থাকে। তার মতে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় আমলেই সংখ্যালঘুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নারী ইস্যুতে জামায়াত পরিবারভিত্তিক ভূমিকার কথা বলে এবং এটিকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে তুলে ধরে।
সামনে বড় পরীক্ষা
জামায়াতের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নামে ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকে।
দেশের একটি বড় অংশ এখনও জামায়াতকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। ফলে সংসদে তাদের আচরণ ও অবস্থানই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে।
সূত্রঃ এনপিআর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au