আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি: সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-রোজ (Al Roj) আটক শিবির থেকে বের হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পথে থাকা আইএস–সংশ্লিষ্ট অস্ট্রেলীয় কয়েকটি পরিবারকে সিরীয় কর্তৃপক্ষ মাঝপথে আটকে দিয়েছে। ফলে কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় থাকা বহরটি আবার শিবিরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সিরীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে আল-রোজ শিবির থেকে ১১টি পরিবার—মোট ২৪ জন—যাত্রা শুরু করে। তবে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। পরিবারগুলো দামেস্কে গিয়ে সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এবিসিকে আরও জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের জন্য অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট ইতোমধ্যে ইস্যু করা হয়েছিল।
কিন্তু শিবির ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই সিরীয় সরকারি কর্তৃপক্ষ দামেস্কের পথে এগোতে বাধা দেয়। কুর্দি প্রহরীদের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে জানানো হয়—সিরীয় কর্তৃপক্ষ তাদের রাজধানীর দিকে যেতে দেবে না। ফলে সবাইকে আবার আল-রোজ শিবিরে ফিরতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার একটি অংশ—আল-রোজ শিবিরসহ—এখনও কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার জানায়, তারা সিরিয়া থেকে কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে না। এক বিবৃতিতে বলা হয়,
“অস্ট্রেলীয় সরকার সিরিয়া থেকে কাউকে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়নি এবং নেবে না। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার চেষ্টা করলে অপরাধে জড়িত থাকলে আইনের পূর্ণ প্রয়োগ করা হবে। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
এর আগেও প্রত্যাবাসন হয়েছে, তবে অনেকেই রয়ে গেছেন
২০২২ সালে আল-রোজ শিবির থেকে প্রথম দফায় চারজন অস্ট্রেলীয় নারী ও ১৩ জন শিশুকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে গত বছর পর্যন্ত শিবিরে অস্ট্রেলীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ৩০ জনেরও বেশি নারী ও শিশু দেশে ফিরতে আগ্রহী ছিলেন বলে এবিসিকে জানান সেখানে আটক এক নারী।
শিবিরের পরিচালক হাকমিয়েহ ইব্রাহিম চলতি মাসের শুরুতে এবিসিকে বলেন, তিনি বিদেশি সরকারগুলোর কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন—নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে।
“আমার বার্তা শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়—সব দেশের জন্য: আপনারা নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিন, এই শিশু ও নারীদের নিয়ে যান,” বলেন তিনি।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ইব্রাহিম সতর্ক করেন, শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুরা “বিপজ্জনক ধারণা ও মতাদর্শের” পরিবেশে বড় হচ্ছে।
“২০১৭ সালে আইএস–সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুদের পরিবারগুলোকে এখানে আনা হয়েছিল। এখন ২০২৬। যত সময় যাচ্ছে, পরিস্থিতি তত জটিল হয়ে উঠছে,” বলেন তিনি।
২০১৯-এর পর থেকে শিবিরে আটক অস্ট্রেলীয়রা
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানে তথাকথিত আইএস ‘খিলাফত’ পরাজিত হওয়ার পর সিরিয়ার বিভিন্ন শিবির ও কারাগারে বহু অস্ট্রেলীয় নারী ও শিশু আটক হন। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব নারীর অনেকেই নিহত বা কারাবন্দি আইএস সদস্যদের স্ত্রী ছিলেন বা সে রকম হিসেবে শনাক্ত হন।
আল-রোজসহ সিরিয়ার আটক শিবির কর্তৃপক্ষ বহুবার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনি জটিলতা এবং জনমতের কারণে অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ এখনো এই প্রত্যাবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au