সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- গুপ্ত বিএনপি স্বরূপে বেরিয়ে আসছে। গুপ্ত জামাত বেরিয়ে গিয়েছিল ৫ আগস্টের পর। জুলাই না হলে এরা গুপ্তই থেকে যেতো। দেখুন, নিঝুম মজুমদার, অমি পিয়াল এদের সমালোচনা এক জিনিস, তারা একদম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক-অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু বছরের পর বছর নিরপেক্ষ সাংবাদিক, মুক্তমনা, নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী, নিরপেক্ষ গায়ক গায়িকা সেজে নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ গোপন করে লিবারেল অরাজনৈতিক চিন্তক সাজিয়ে রাখাটা সাদিক কাউয়ুমের গুপ্ত শিবির করার মতই বিষয়টা।
যারা বিএনপির সাপোর্টার তাদেরকে আমি শিক্ষিত মনে করি না। বিএনপির রাজনৈতিক বিশ্বাসটা বিকৃত, তাদের বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের ন্যারেটিভটা মিথ্যাচারে ভরা। কোন জ্ঞানী লোক তাই বিএনপি করতে পারে না। তবে যে কেউ বিএনপি করতে পারে এবং সেটা গর্ব করে বলতেও পারে। যেমন আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও সেটা পারেন। আওয়ামী লীগ যিনি করেন তিনি এটা সচেতনভাবে জানেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শটা ভারতীয় কংগ্রেসের যে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ সেটা থেকে অনুপ্রাণিত। সেই আদর্শ থেকে দলটি নানা সময়ে বিচ্যুত হয়েছে। ধর্ম নিয়ে খেলেছে। তবু আওয়ামী লীগকে ঘৃণাকারী সাধারণ জনগণ যারা বিএনপি বা অন্য দল করে কারণ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ দল। ৯১ সালের পর খোদ জনগণকে আওয়ামী লীগ তাই বুঝাতে চেয়েছে তারা খুবই ধার্মিক এবং বিএনপি বা ইসলামী দলগুলোর চাইতে বেশি প্র্যাক্টিক্যালি মুসলমান। এইসব দোষ (আমার চোখে) থাকার পরও আওয়ামী লীগ তার শেকড়ের ধর্মনিরপেক্ষতা পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি, পারবেও না। আমি এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবার ফিরে আসা খুব করে চাই ঠিক এই কারণেই।
কিছু গুপ্ত বিএনপি ও প্রবাসী মুক্তমনু মফিজরা আমাকে আওয়ামী লীগের দালাল বা আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত সাজাতে চাইছে। দেখুন, আওয়ামী লীগ জামাত ইসলামের মত কোন ঘৃণ্য দল নয় যে আমার নামের সঙ্গে সেটি গেলে আমি লজ্জিত হবো। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি যদি আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস গুলিয়ে যায় তাহলে আমার পক্ষে আর মুক্তভাবে চিন্তা করা সম্ভব হবে না এটি আমি জানি। ফলে আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস আছে, কোন দল নেই। আওয়ামী লীগ যখন ১৭ বছর সরকারি দল ছিল তখনকার আমার লেখাগুলোতে আওয়ামী লীগের মুসলিম লীগ চরিত্র নিয়ে আমি দিনের পর দিন যা লিখেছি এইসব গুপ্ত বিএনপি ও গুপ্ত এনসিপি (জেনজি) তোমরা হয়ত তখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করার মত প্রাপ্ত বয়স্ক হওনি, তবে গুগল করলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমার লেখাগুলো পাওয়া যায়। সেখানে আওয়ামী লীগের এমন উলঙ্গ সমালোচনা তোমাদের হজম হবে কিনা জানি না।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষ শক্তি আছে বলেই আওয়ামী লীগ দলটিকে আমাদের দরকার। যদি বাংলাদেশের জন্মের পক্ষে বিপক্ষে বিভাজন না থাকত তাহলে এই সমীকরণ দরকার ছিল না। যারা মনে করে বাংলাদেশে আর কোনদিন আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে না, বা পঞ্চাশ বছর লাগবে- তাদের মত ভোদাই গান্ডু দুম্বা দুইটা নাই! এদের রাজনীতি নিয়ে কথা বলাই উচিত না। কারণ তারা বাংলাদেশের রাজনীতির মাটিটাকেই চেনে নাই। এখানে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষ শক্তি আছে, দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের যে ভাষা কালচার মুসলিম জাতীয়তাবাদ সেটি যেমন আজও আছে এবং সেখানে ফিরতে চাওয়া রাজনীতি আছে, আজাদি ইনকিলাব ইনসাফ এইসব শব্দগুলো সেই পাকিস্তানি ফ্লেবারে ফেরার চেষ্টা- ঠিক এর বিপরীতে বাংলাদেশের রাজনীতির মাটিতে আছে ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ে যে উদার বাঙালিত্ব, যে বাঙালিত্ব স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছিল, ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রগতিশীল ঢাকার সংস্কৃতিমনারা পাকিস্তান ভাঙার পক্ষে ছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধে সংস্কৃতিযুদ্ধটা পরিচালনা করেছিল- যে সংস্কৃতিকর্মীরাই ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরি ও রমনার বটমূলে বৈশাখ পালন শুরু করে- এই সংস্কৃতির মাটির রাজনৈতিক শক্তি রূপে শেখ মুজিব এদেশের অবিসংবাদিত নেতা রূপে হাজির হন। শেখ মুজিব সেই সাংস্কৃতিক মাটি থেকে তার মুসলিম লীগ রাজনীতি ত্যাগ করে তাঁর নতুন বোধন হয়েছিল বলেই ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে জাতীয় সংগীত করার কথা তিনি ষাটের দশকেই নানাজনের কাছে বলেছিলেন। তখনকার আওয়ামী লীগের যে কোন সভায় মুজিব এই গানটি শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াতেন। মুজিবের বিস্তর সমালোচনা করে আমার লেখা আছে। সেসব আবার করা যাবে। যতদিন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না ফিরতে পারছে ততদিন আমি আওয়ামী লীগ। কারণ আমি বাংলাদেশের চিরসত্য যে বিভাজন- আমি মুক্তিযুদ্ধের সেই পক্ষ শক্তি- আমি তার পক্ষে। জুলাই ছিল সচেতন জামাত-শিবিরের আন্দোলন। আর ছিল নির্বোধ সাধারণ জনগণ, ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান শুনে প্রতারিত হওয়া কিছু জনগণ- ছিল এন্টি-আওয়ামী লীগ বামদের আন্দোলন। ফলে আমাদের ইতিহাসে জুলাই হচ্ছে এনিমি। এটাই সত্যি। জুলাই ও ৭১-কে যে এক ও দুটোকেই নিয়ে যে গর্ব করে সে জামাত-শিবিরের চাইতে বিপজ্জনক। আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধেও। আর হ্যাঁ, কে আমাকে লীগ মনে করলো, কে আমাকে বিজেপি মনে করল, তাতে আমার কি?
বিএনপি আওয়ামী লীগকে ফেরানোর সুযোগ দিবে কিনা, বা আওয়ামী লীগ কোন উপায়ে ফিরবে এসব সময়েই বলে দিবে। তবে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিদেশের হাতে চলে গেছে। ফলে এটা বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার সুযোগ আওয়ামী লীগ পেতে পারে নিজেদের ফেরাতে। না হলে ভিন্ন কোন উপায়ে। মাত্র দেড় বছর হলো, এত তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই। এত তাড়াতাড়ি সব মিলে গেলে এদেশের মানুষ তো সত্যিকারের মর্মতা বুঝবে না। ৯ মাসে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপে স্বাধীন হয়েছিল বলেই তো এদেশের মানুষ পাকিস্তানের নৃশংসাকে মনে রাখতে পারেনি, স্বাধীনতার মর্যাদাও রাখতে পারেনি। কাজেই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে ত্যাগ স্বীকার করে ফিরে আসতে হবে। যে দেশের রাজনীতিতে বিদেশিদের খেলা চলে সে দেশে রাজনৈতিক প্রডিকশন করা এত সহজ না। গত দেড় বছরে আমরা সকলেই আজকে যা বলেছি কালকে সেটার পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। কোন সুস্থ রাজনীতিতে এটা হয় না। আমাদের সুস্থ রাজনীতিতে ফিরতেও সময় লাগবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au