‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র দি ডেইলি ওয়্যারের প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীকে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে এই সংগঠন এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তহবিল প্রদান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দি ডেইলি ওয়্যার’ পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে জামায়াতে ইসলামীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা’ (আইসিএনএ) ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এফইএমএ) থেকে মোট ১০ মিলিয়ন ডলার তহবিল পায়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইসিএনএ এবং তার সহযোগী দাতব্য প্রতিষ্ঠান আল খিদমত ফাউন্ডেশন পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারিত্ব করে। আল খিদমত ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে তহবিল সরবরাহ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আল খিদমতের প্রেসিডেন্ট হাফিজ নাইমুর রহমান কাশ্মীরভিত্তিক জিহাদি গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ‘ইসলামিস্ট ওয়াচ’ সংস্থার পরিচালক স্যাম ওয়েস্ট্রপ বলেন, আইসিএনএ একটি আন্তর্জাতিক সাহায্য শাখা পরিচালনা করে, যার নাম ‘হেল্পিং হ্যান্ড ফর রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, এবং সেটি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক জামায়াত-সম্পৃক্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মুসলিম এইড’ ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের কাছ থেকে ‘ফুড ফর পিস’ কর্মসূচির জন্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা পেয়েছিল। মুসলিম এইডের প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মঈনউদ্দিনকে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই সংগঠনের একটি অর্থ সংগ্রহ অফিসও রয়েছে।
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য জিম ব্যাংকস যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে ১৬০ নম্বর বিল উত্থাপন করেন, যেখানে আইসিএনএসহ জামায়াত-সংক্রান্ত মৌলবাদী নেটওয়ার্কের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি তহবিল বন্ধের দাবি জানানো হয়। বিলটিতে বলা হয়, আইসিএনএ-এর মতো তহবিলপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির বারবার সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসির হত্যার প্রতি সমর্থন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আসিয়া বিবির মুক্তির বিরোধিতা, আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার মতো বিষয়গুলোও এই বিলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রস্তাবের কথাও বলা হয়, যেখানে জামায়াতে ইসলামী থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্পষ্টভাবে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, এবং বিএনপির প্রতি কামাল হোসেনের আহ্বান তুলে ধরা হয়েছে, যেন তারা জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের প্রতি বলা হয়েছে, যেন তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ক্রমাগত হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইসিএনএ তাদের ৪৪তম কনভেনশন ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজন করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এই কনভেনশনে ২২ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ২০০৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল সরকার ৪১১টি অনুদান ও চুক্তির মাধ্যমে ৬১টি ইসলামি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়, মৌলবাদী ইসলামী আন্দোলনগুলো মুসলিম সংগঠনগুলোর ৩৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যারা মোট তহবিলের ৪২ শতাংশ পায়। আরও ৩৬ শতাংশ তহবিলগ্রহীতা বিভিন্নভাবে মৌলবাদী প্রভাব দ্বারা পরিচালিত, যারা ৪৪ শতাংশ তহবিল পায়। আর মাত্র ১৪ শতাংশ তহবিল মুসলিম সংগঠনগুলোকে যায়, যাদের ওপর মৌলবাদীদের কোনো প্রভাব নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের ব্রাদারহুড, দক্ষিণ এশিয়ার জামায়াতে ইসলামী, সালাফি, দেওবন্দি মতাদর্শের সংগঠন এবং ইরানের প্রশাসনসহ অন্যান্য গোষ্ঠীকে অন্তত ৪১ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ইসলামী মৌলবাদী সংগঠনগুলোর জন্য তহবিল কমেনি, বরং ২০১৮ সালে ৪০টি অনুদান ও চুক্তির মাধ্যমে ১৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে, যা ওবামা প্রশাসনের সময় দেওয়া অনুদানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অভিযোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au