বাংলাদেশ

শপথ অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ না থাকায় ঐক্য পরিষদের সমালোচনা, সকল ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের দাবি

  • 4:59 am - February 18, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩৩ বার
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে শুধু পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত রাখা হলেও অন্যান্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন সংগঠন এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, একটি সার্বজনীন ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র এক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পাঠ রাখা হলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে সকল ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ রাখা হলে গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সমান মর্যাদার বার্তা আরও দৃঢ় হবে।”

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদার দাবিদার। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিকে বাস্তবে প্রতিফলিত করতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সব ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক।”

তারা আরও বলেন, এমন একটি অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের পাঠ থাকলেও শ্রীমদ্ভগবদগীতা বা বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ না থাকায় সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ কমে গেছে, যা সমাজে বিভেদ ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। একাধিক ধর্মীয় ও মানবাধিকার কর্মী মনে করেন, নতুন সংসদের পথচলা যদি সমতা, সাম্য ও সমমর্যাদার বার্তা দিয়ে শুরু না হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়েও প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের আয়োজন করা হোক যাতে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও জোরদার হয় এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের সাংবিধানিক পটভূমিতে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুভূতি বজায় রাখা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব না থাকলে তা সামাজিক সংহতি ও সমঝোতার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকার বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মহল এই দাবিকে গুরুত্বসহ গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতে এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সমন্বয় বাড়াতে প্রস্তাবনা কার্যকর করার দাবি উঠেছে।

এই শাখার আরও খবর

রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন

মেলবোর্ন, ৭ জুন- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল রোববার। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ…

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

মেলবোর্ন, ৭ জুন- রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের…

ভারতের রাজনীতিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কেন আলোচনায়?

মেলবোর্ন, ৭ জুন- ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি অদ্ভুত নামের অনলাইন আন্দোলন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হয়েও…

মুসলিম নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজস্ব অ্যাকটিভওয়্যার ব্র্যান্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার এক মা

মেলবোর্ন, ৭ জুন- অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের মারে ব্রিজ শহরের বাসিন্দা ইয়াসমিন জাম্মুল নিজের প্রয়োজন থেকেই শুরু করেছিলেন একটি ছোট উদ্যোগ। সেই উদ্যোগই এখন রূপ নিয়েছে মুসলিম…

ব্যালট সংকটে উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়া, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় হাজারো মানুষ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ব্যালটপত্র সংকটের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ…

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দুই…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au