আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই কোটিপতি— এমন তথ্য তুলে ধরেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচিত ২৯৭ জন এমপির মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ এক কোটি টাকার বেশি। শতাংশের হিসাবে যা ৯১ দশমিক ২৫। এছাড়া পাঁচ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন ১৮৭ জন, যা মোট বিজয়ীর প্রায় ৬৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিতদের সম্পদসংক্রান্ত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন এমপির মধ্যে ২০১ জনই কোটিপতি, যা ৯৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৫২ জনের সম্পদ এক কোটি টাকার বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
সুজন জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক মাত্র দুইজন, যা মোটের শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। সম্পদের ঘর পূরণ না করা তিনজনকে যুক্ত করলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজন বা ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
সংগঠনটির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তুলনায় নির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির হার বেশি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বিপরীতে ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদের প্রার্থীদের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ (৩৭৯ জন)। সম্পদের তথ্য পূরণ না করা ৫৮ জনকে যুক্ত করলে এই হার দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ (৪৩৭ জন)। কিন্তু নির্বাচিতদের ক্ষেত্রে স্বল্প সম্পদের মালিকদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করেও সম্পদের প্রবণতায় ঊর্ধ্বমুখী চিত্র পাওয়া গেছে। ওই নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা ত্রয়োদশ নির্বাচনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ২৫ শতাংশে। অন্যদিকে স্বল্প সম্পদের মালিক বিজয়ীর হার আগের নির্বাচনে ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ, বর্তমানে যা নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশে।
সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে স্বল্প সম্পদের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার হার ক্রমেই কমছে। বিপরীতে উচ্চ সম্পদের মালিকদের উপস্থিতি বাড়ছে।
শীর্ষ ১০ সম্পদশালী এমপি
বিজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক শরীয়তপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সাঈদ আহমেদ। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৯৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ টাকা।
এরপর রয়েছেন ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু (৯৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ টাকা), কুমিল্লা-৮ থেকে জাকারিয়া তাহের (৭৭০ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৪ টাকা), বগুড়া-৫ থেকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (৬১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৯৭ টাকা), শরীয়তপুর-২ থেকে মো. সফিকুর রহমান (কিরণ) (৫৫৭ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৪৯০ টাকা), ময়মনসিংহ-১১ থেকে ফখর উদ্দিন আহমেদ (৪৬৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪২ টাকা), মৌলভীবাজার-৩ থেকে নাসের রহমান (৩৮০ কোটি ৬৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৯ টাকা), চাঁদপুর-২ থেকে মো. জালাল উদ্দিন (৩৬৪ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ১০৬ টাকা), ঢাকা-৮ থেকে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (৩২৫ কোটি ৯৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৬ টাকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর-৪ থেকে নির্বাচিত মো. আবদুল হান্নান (৩১৮ কোটি ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৪২৮ টাকা)।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পদের এই প্রবণতা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের চরিত্র ও নির্বাচনী প্রতিযোগিতার কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au