মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ল বিদ্রোহের পরিকল্পনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সিউলের একটি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইউন আকস্মিকভাবে দেশে সামরিক আইন জারি করেন। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাপক চাপ ও প্রতিক্রিয়ার মুখে সামরিক আইন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
পরে তদন্তে উঠে আসে, সামরিক আইন জারির প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পরিকল্পনা ও কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মামলা করা হয়।
সরকারপক্ষ আদালতে ইউনের জন্য মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। তবে সিউলের জেলা আদালত তার বয়স এবং অতীতে বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের পরিকল্পনার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সে হিসাবে আদালত সর্বোচ্চ বিকল্প শাস্তিই দিয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইউন একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। মোট আটটি বিচার প্রক্রিয়া চলমান ছিল বা রয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার এড়াতে বাধা দেওয়া এবং জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক একটি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাটিই ছিল সবচেয়ে গুরুতর।
গত জানুয়ারিতে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ইউনের অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন ঘোষণা জাতীয় পরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ দেশের উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
৬৫ বছর বয়সী ইউন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামরিক আইন জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা তার ছিল। তারা দাবি করেন, বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে সরকারি কাজ সচল রাখতে এবং তাদের সতর্ক করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে তিনি সিউলের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি আছেন। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
রায় ঘোষণার দিন সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আদালত ভবনের চারপাশে পুলিশের বাস দিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। যদিও ২০১৬ সালে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হয়নি। ফলে দেশটিতে কার্যত দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ড স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন রায় দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গণতান্ত্রিক কাঠামো, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au