‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- দায়িত্ব ছাড়ার আগের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি ছয়টি অধ্যাদেশ জারি করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। মোট ৫৫৯ দিনে তারা জারি করেছে ১৩২টি অধ্যাদেশ। সংবিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে আইনে পরিণত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন সরকারের সামনে বড় এক আইনগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব, ব্যাংকিং, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন খাতে এসব অধ্যাদেশ জারি হয়।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে। উপস্থাপনের পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে বা সংসদ অননুমোদনের প্রস্তাব গ্রহণ করলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৮ মার্চের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে হবে। হিসাব অনুযায়ী, ১৩২টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে হলে সরকারকে দিনে গড়ে সাড়ে চারটির বেশি অধ্যাদেশ সংসদে পাস করাতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সব সিদ্ধান্তে বিএনপি পূর্ণ সমর্থন দেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার কোন অধ্যাদেশ রাখবে আর কোনটি বাতিল করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাবেক এক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশগুলো জারি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপট এখন কতটা বিদ্যমান তা বিবেচনা করা জরুরি। সরকারকে আগে স্থিতিশীল হতে হবে, এরপর অগ্রাধিকার ঠিক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই খসড়া বিল সংসদে তোলা হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, জনস্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলার সহায়ক অধ্যাদেশগুলো রাখা উচিত। তবে নতুন সরকার নিজেদের সংস্কারনীতি ও নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাদ দিতে পারে। প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনও করা হতে পারে।
এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১২২টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। নবম সংসদে সেগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। পর্যালোচনা শেষে ৫৪টি অধ্যাদেশ আইনে রূপ পায়, বাকিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বেশির ভাগ অধ্যাদেশই শাসনব্যবস্থার গুণগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলো আইনে পরিণত না হলে কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী সংসদ অধিবেশনেই নির্ধারিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের কতটা টিকে থাকবে এবং কতটা ইতিহাস হয়ে যাবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au