৬–৩ ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, “শুল্ক আরোপের মতো ব্যতিক্রমী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। এই ক্ষেত্রে তা ছিল না।”
রায়ের পরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কটাক্ষ করে বলেন, তারা দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে সাহস দেখাননি। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, বিচারপতিরা নাকি বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও বৈশ্বিক শুল্ক পুনর্বহালের ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় সময় শুক্রবারের মধ্যেই তিনি ১০ শতাংশ নতুন বৈশ্বিক ট্যারিফ আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করবেন। প্রয়োজনে আগের চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। তবে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আদালত স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি। বিচারপতি ব্রেট কাভানফ বলেন, এই ফেরত প্রক্রিয়া “ভয়াবহ জটিলতায়” পড়তে পারে, কারণ অনেক আমদানিকারক ইতিমধ্যে বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
তবে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কপার, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, কাঠ ও আসবাবপত্রের মতো নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এই রায়ের আওতার বাইরে থাকবে। গত এপ্রিল মাসে ১৮০টির বেশি দেশের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিলেন। এসব শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ এবং লাওসের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপরও ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছিল, যাকে তখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ “অযৌক্তিক” ও “বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ নয়” বলে মন্তব্য করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীরা এখন বড় অঙ্কের ফেরতের আশায় বুক বাঁধছেন। এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইওয়াই অস্ট্রেলিয়ার হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ীরা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। ইওয়াই ওশেনিয়ার বৈশ্বিক বাণিজ্য নেতা লুক ব্র্যানসন ব্যবসায়ীদের দ্রুত নথিপত্র প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে আইনি সময়সীমার মধ্যে ফেরতের দাবি তোলা যায়।
এই মামলাটি দায়ের করেছিল ছোট ব্যবসায়ীদের একটি জোট ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। তারা অভিযোগ করেছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। ট্রাম্প দুটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্ক আরোপের যুক্তি দেখিয়েছিলেন—একটি ছিল কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে অবৈধ মাদক প্রবাহ, অন্যটি ছিল দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই রায়কে সাধারণ মানুষ ও ছোট ব্যবসার জন্য “বড় জয়” বলে অভিহিত করেছেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, এতে করে আমেরিকান পরিবার ও ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।
তবে বিচারপতি কাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের বিরোধিতা করেছেন। কাভানফের মতে, নীতিগতভাবে শুল্ক ভালো বা খারাপ হতে পারে, কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ট্রাম্প মনোনীত দুই বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত হয়ে শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।