শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে হেনস্তা। ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর প্রথম প্রহরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে ফুলের স্তবক হাতে শহীদ মিনারের বেদির দিকে এগিয়ে যান। এ সময় একদল উত্তেজিত মানুষ তাকে ঘিরে ধরে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভিড়ের চাপে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান।
ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, উপস্থিত উত্তেজিত জনতার একটি অংশ স্লোগান দিচ্ছে , “ভুয়া-ভুয়া, তারেক… জিয়া, তারেক… জিয়া।” একই সঙ্গে রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সমর্থককে লক্ষ্য করে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এক পর্যায়ে তার সমর্থকদের হাত থেকে ফুলের স্তবক কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে পিষে নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়ে ভিডিওতে।
ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন নারী সংসদ সদস্যকে শহীদ মিনারের মতো সংবেদনশীল স্থানে প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হতে হলো, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে, যখন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে যান, তখন এমন ঘটনার কারণে নারীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রুমিন ফারহানা। ছবিঃ সংগৃহীত
এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা বেশ কিছুক্ষণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা একটি ভিডিও বার্তায় জানান, এটি পরিকল্পিত হামলা। এই হামলার জন্য তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের দায়ি করেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসার পর যদি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে এর অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সরকারের ভাবমূর্তিও খারাপ হবে। সরকার ও বিএনপির প্রতি তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান।
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে ক্লিক করুন এখানে