সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি: ভিক্টোরিয়ার টার্নেইট জুলিয়া গিলার্ড লাইব্রেরির প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করেছে ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশন (VBCF)। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে ভিবিসিএফ-এর সভাপতি এ কে এম মোরশেদ কামাল বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল বাঙালির নয়, এটি পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যে আত্মত্যাগ, তা আমাদের সবাইকে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়।”

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও কাউন্সিলররা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম ছবিতে দেখা যাচ্ছে এমপি জোয়ান রায়ান ও এমপি ডিলান রাইট কে। ছবি:ওটিএন বাংলা
এরপর একে একে স্থানীয় কাউন্সিলর ও সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানান। আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পয়েন্ট কুকের এমপি ও লেবার প্রার্থী ম্যাথিউ হিলাকারি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ছবি:ওটিএন বাংলা
এমপি ও পয়েন্ট কুকের লেবার প্রার্থী ম্যাথিউ হিলাকারি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এভাবেই উদ্যাপন করা প্রয়োজন। ভাষা না থাকলে সংস্কৃতিও থাকে না।”বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান টার্নেইটের শহীদ মিনারে। ছবি:ওটিএন বাংলা
এই আয়োজনে বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে আসে ছাত্রসমাজ। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না-জানা অনেক শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাঙালি ফিরে পায় তার প্রাণের ভাষা বাংলা। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করে।

টার্নেইটে শহীদ মিনারে একুশের শ্রদ্ধাঞ্জলি।ছবি:ওটিএন বাংলা
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর স্বীকৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেসকোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরের বছর ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে এই দিবসটি উদ্যাপন শুরু হয়, যার ফলে বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পেছনে কানাডাপ্রবাসী বহুভাষিক মাতৃভাষা-প্রেমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ তারা জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ইউনেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
টার্নেইটের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেমন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তেমনি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au