চাইনিজ নিউ ইয়ার মঞ্চে ভিক্টোরিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ায় চাইনিজ নিউ ইয়ার উদযাপনের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। ভিক্টোরিয়ায় আসন্ন রাজ্য নির্বাচনের আগে এক জরিপে ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’ অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন জোটের দুই দল লেবার ও লিবারেল নতুন চাপে পড়েছে।
শনিবার মেলবোর্নের বক্স হিলে চীনা নববর্ষ উৎসবে যোগ দেন ফেডারেল বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর, ভিক্টোরিয়ার লিবারেল নেতা জেস উইলসন, ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং। বহুদলীয় এই উপস্থিতি ছিল উৎসব মুখর, তবে পেছনে ছিল নির্বাচনী রাজনীতির আগাম হিসাব-নিকাশ।
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রাথমিক ভোটের হিসাবে পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন ওয়ান নেশন পার্টি পেয়েছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন। ক্ষমতাসীন ভিক্টোরিয়ান লেবার পার্টি পেয়েছে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং লিবারেলরা ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও দুই দলের পছন্দ নির্ভর ভোটের হিসাবে লেবার পার্টি সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
রয় মরগ্যানের ওই জরিপে প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালানের জনপ্রিয়তা মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা জেস উইলসনকে তাদের পছন্দের নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। বিতর্কিত সাবেক প্রিমিয়ার ড্যান অ্যান্ড্রুজের পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেওয়া অ্যালানের জন্য এটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেলবোর্নের বক্স হিল শহরতলি চীনা বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়দের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসকেন্দ্র। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানকার ৪৫ শতাংশের বেশি বাসিন্দা নিজেদের চীনা বংশোদ্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে চাইনিজ নিউ ইয়ার আয়োজন এখানে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।
গত বছর একই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা পিটার ডাটন। সেই সময় নির্বাচনের কয়েক মাস পরই কোয়ালিশন বড় ব্যবধানে লেবার পার্টির কাছে পরাজিত হয়।
এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কোয়ালিশন সদ্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাচ্ছে। এ অবস্থায় ডানপন্থী ভোটারদের একাংশের অসন্তোষের সুযোগ নিচ্ছে ওয়ান নেশন, যা টানা কয়েকটি জরিপে কোয়ালিশনকে পেছনে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনে প্রধান দুই দলের পাশাপাশি ওয়ান নেশনের উত্থান ভিক্টোরিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই চাইনিজ নিউ ইয়ার উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে আসন্ন নির্বাচনের আগাম ইঙ্গিত বহনকারী এক রাজনৈতিক মঞ্চ।