শহীদ মিনারে ‘শেখ হাসিনার পক্ষে’ শ্রদ্ধা জানালেন কয়েকজন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার পক্ষে’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কয়েক ব্যক্তি।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তারা শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুষ্পস্তবক হাতে পাঁচজন ব্যক্তি শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পুষ্পস্তবকের মাঝখানে সাদা কাগজে লেখা ছিল, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী’।
তাদের মধ্যে ছিলেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিষ্টি সুভাষ। গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন তিনি।
এদিকে, একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি ইউনিটের কর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিলে তারা ফুল ও ব্যানার রেখে এলাকা ত্যাগ করেন। তবে শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া পাঁচজন কোনো বাধার সম্মুখীন হননি।
সন্ধ্যায় মিষ্টি সুভাষ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুষ্পস্তবকের ভেতরে থাকা সাদা কাগজটি তিনি কোমরে গুঁজে রেখেছিলেন। সেটি বের করার সময় একজন দেখে ফেলেন এবং অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, আপত্তিকারীর সঙ্গে কথা বলার পর আর কোনো বাধা আসেনি।
তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, রুবেল, রায়হান ও হাসিব নামের কয়েকজন তার সঙ্গে ছিলেন এবং তারা বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং পূর্বাচল প্লট দুর্নীতির মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে থাকা নেতাকর্মীরাও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারছেন না। তবে মাঝে মাঝে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক মিছিলের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো থেকে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় মিষ্টি সুভাষের নামও রয়েছে।
শুক্রবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর উপস্থিত সাংবাদিকদের মিষ্টি সুভাষ বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির উত্তরসূরিরা দেশে ষড়যন্ত্র করছে। তার অভিযোগ, শহীদ মিনারে জামায়াতে ইসলামীর উপস্থিতি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
চব্বিশের অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিষয়টিকে ‘প্রতারণার কৌশল’ আখ্যা দিয়ে মিষ্টি সুভাষ বলেন, এটি তিনি মেনে নিতে পারেন না।
মিষ্টি সুভাষ আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, যখন শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হেনস্তার শিকার হন। পরে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হন। হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তিনি দুই দফায় প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
শহীদ মিনারে ‘শেখ হাসিনার পক্ষে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।