ইরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ,ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন ইরানের শিক্ষার্থীরা। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শনিবার মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
Sharif University of Technology–এর ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন। নতুন সেমিস্টারের শুরুতেই আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। তারা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু”সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন, যা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei–কে ইঙ্গিত করে।
একই স্থানে সরকারপন্থী একটি সমাবেশও ছিল। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। যদিও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবু পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তেহরানের Shahid Beheshti University–এ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া Amir Kabir University of Technology–এও সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর Mashhad–এ শিক্ষার্থীরা “স্বাধীনতা” ও “অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও” স্লোগান দেন বলে জানা গেছে। দিনের শেষ ভাগে আরও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় এবং রোববার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ,ছবি: সংগৃহীত
এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে গত জানুয়ারির গণআন্দোলনের স্মৃতি। অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন দ্রুত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Activists News Agency জানিয়েছে, ওই সময় অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আরও বহু মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ইরানের সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০–এর বেশি। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সহিংসতার শিকার সাধারণ মানুষ।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে, যদিও তেহরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে চুক্তি হবে কি না, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাসিত কিছু বিরোধী গোষ্ঠী বাইরের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেও দেশের ভেতরে ও বাইরে অন্য অনেকেই তা প্রত্যাখ্যান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিন্নমতের প্রচার ও পাল্টা প্রচার চলছে।
দমন-পীড়নের পরও যে অসন্তোষ থেমে নেই, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সেই বার্তাই দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বহিরাগত চাপের মধ্যে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সুত্রঃ বিবিসি