সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রফতানি সংকট ও বাজেট চাপের কারণে সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে। এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে এখন উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পারদ চড়ছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে এটি কার্যকর করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা অপরিহার্য। পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে যাতে কোনও দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাবে আপত্তি না জানায়।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্কসুবিধা হ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্য কূটনীতি দেশের অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে আনতে হবে। বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো বড় বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও উদীয়মান এশীয় বাজারে বহুমুখী লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন।
‘ক্রাইসিস বাটন’ চাপে বাংলাদেশের পদক্ষেপ
বাংলাদেশের আবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, দেশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ‘ক্রাইসিস বাটন’ চাপানো হয়েছে।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে পাঁচ দিনব্যাপী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়ন করা হবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলাদেশকে আগের উত্তরণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে বিচার করা হবে। উত্তরণকালীন কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতাও বিবেচনা করা হবে।”
ত্রিবার্ষিক ভিত্তিতে এলডিসি-ভুক্ত দেশগুলোর মূল্যায়ন হয়। প্রধান তিনটি সূচক হলো-মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক। বাংলাদেশের ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে উত্তরণ নিশ্চিত ছিল। তবে করোনার প্রভাব এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠি সিডিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোভিড পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক সময়কাল কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্য পূরণ ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার তিন বছরের জন্য ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ পরিচালনা ও সময় বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি হবে। এরপর সিডিপি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেবে। চূড়ান্ত সুপারিশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে, যেখানে এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে যদি সময় বৃদ্ধি পাওয়া যায়, তবে রফতানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এলডিসি-উত্তর প্রতিযোগিতার জন্য শক্তিশালী প্রস্তুতি নিতে পারবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au