আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পরপরই অন্য আইনের আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করতে আপাতত কোনো উদ্যোগ নেবে না বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হলে তখনই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে ঢাকা।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। চুক্তি কার্যকর করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা রেটিফিকেশন প্রয়োজন। আপাতত বাংলাদেশ এ রেটিফিকেশন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে অবহিত করে, তখন বাংলাদেশ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যখন পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে, তখন তারা কোন ভিত্তিতে চুক্তি অনুমোদন করবে সেটিও জানতে চাওয়া হবে। আপাতত বাংলাদেশ আগ বাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
বাণিজ্য সচিব আরও জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের জন্য একই হারে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে বাংলাদেশের আলাদা করে কিছু করার সুযোগ সীমিত থাকবে। তবে দেশভেদে শুল্ক কমানোর সুযোগ থাকলে বাংলাদেশ আলোচনায় অংশ নেবে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ নিজ নিজ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে লিখিত নোটিশ বিনিময়ের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হওয়ার কথা। পারস্পরিক সম্মতিতে অন্য কোনো তারিখও নির্ধারণ করা যেতে পারে। আবার যে কোনো পক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে, সে ক্ষেত্রে ৬০ দিন পর অথবা সম্মত তারিখে তা কার্যকর হবে।
চুক্তির আগে সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে ২০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর ছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে তা ১৯ শতাংশে নামার কথা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণাও ছিল। তবে এ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্ত মেনে নিতে হয়েছে।
চুক্তির শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক ও অসামরিক পণ্য কেনা বাড়ানো, তাদের পণ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা ব্যাপকভাবে কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়। সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত প্রকাশ্যে আসার পর অনেক অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী চুক্তিটিকে জনস্বার্থবিরোধী ও দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামোর অনিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। শুল্ক হার বারবার পরিবর্তিত হলে ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা কোন ভিত্তিতে দর নির্ধারণ করবেন তা স্পষ্ট নয়। এ অনিশ্চয়তার কারণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন রপ্তানিকারকরা।
নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যদি অন্য দেশগুলোর জন্য ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয় এবং বাণিজ্যচুক্তির কারণে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ কার্যকর থাকে, তাহলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। তিনি দাবি করেন, যেহেতু মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়েছে, সেহেতু চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রপ্তানিকারকদের মতে, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির ঘন ঘন পরিবর্তনে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রপ্তানি প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মাঝপথে শুল্ক পরিবর্তন হলে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমনকি ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কও ভবিষ্যতে আবার পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেসব দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে এবং নির্ধারিত উচ্চহার কার্যকর থাকবে।
রায়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্ন্ড ল্যাঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে শুল্ক বিশৃঙ্খলা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এতে ইউরোপসহ অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আসে। রয়টার্সকে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনে পাঠানোর কথা থাকা একটি প্রতিনিধি দলের সফর স্থগিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মার্কিন শুল্কনীতি ঘিরে নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে ঢাকা, একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au