দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কার্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ। রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলা ভিসা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটল।
ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো এখন পর্যটন, ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু করা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সীমান্তপারের ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো মানুষের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর ভারতও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পূর্ণ ভিসা সেবা পুনর্বহালের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে সীমিত আকারে চিকিৎসা ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দিচ্ছে। শিলং ও সিলেটের কনস্যুলার সূত্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- বাংলাদেশি ভিসা সেবা পুনরায় চালু হলেও কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে আবেদনকারীদের—
- এখনো ই-ভিসা চালু হয়নি।
- কাগজে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং সরাসরি উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে।
- সিলেট ভিসা কেন্দ্র প্রাথমিকভাবে আগের সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ কার্যক্রম চালাবে, কারণ আগের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে।
- পর্যায়ক্রমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে, তাই ভ্রমণ পরিকল্পনাকারীদের নিয়মিত সময়সূচি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়াকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতগামী স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উৎস দেশ।
ভিসা কেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কাজও শুরু হয়েছে। সমন্বিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
সূত্রঃ ট্রাভেল ল্যান্ড