পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি, মৃত্যু নিশ্চিত করতে কুপিয়ে হত্যা
পাবনার আটঘরিয়ায় আদম আলী (৬০) নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার…
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরবে না এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হয়ে পড়বে।
আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তাসকিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ব্যবসা পরিচালনায় যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। বিশেষ করে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রধান প্রত্যাশা হলো চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করা। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির যে লক্ষ্য নিয়েছে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
অর্থনীতিতে পুনর্জাগরণ ঘটাতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি। তাঁর মতে, এ জন্য চারটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে হবে, যাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে নিয়োগকারী ও বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবেন।
তৃতীয়ত, ঋণখেলাপি হলেও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন বা মূলধন জোগানের মাধ্যমে তাদের পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
চতুর্থত, ব্যাংকঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, যাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ব্যয় কমে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, বেসরকারি খাত সচল না হলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au