আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই এবং জনমত মূল্যায়ন প্রয়োজন ছিল।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের খাকি পোশাক পরিবর্তন করা হয় এবং বর্তমান ইউনিফর্ম চালু হয়। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন ও রাতের দায়িত্ব পালনের সময় সহজে চিহ্নিত হওয়ার বিষয় এবং অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়িয়ে চলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল।
কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নির্বাচিত নতুন পোশাকে এসব বাস্তব দিক যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংগঠনটির। তাদের মতে, নতুন ইউনিফর্মের রং ও নকশা অন্য কয়েকটি সংস্থার পোশাকের সঙ্গে মিল থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বিভ্রান্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় সব সদস্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, একটি ইউনিফর্ম কেবল পোশাক নয়; এটি বাহিনীর ইতিহাস, শৃঙ্খলা, আত্মপরিচয় ও পেশাদারিত্বের প্রতীক। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পোশাকের সঙ্গে সদস্যদের আবেগ ও পরিচয়ের সম্পর্কও জড়িয়ে আছে।
পোশাক পরিবর্তনকে বড় ধরনের ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন ইউনিফর্ম প্রণয়ন ও সরবরাহের পরিবর্তে সেই অর্থ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি, লজিস্টিক সহায়তা জোরদার এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মনোবল উন্নয়নে ব্যয় করা অধিক যৌক্তিক হবে।
তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে পোশাকের রং বা নকশা নয়, বরং সদস্যদের মনোভাব, মনোবল, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারের প্রতি বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আবেগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং বাহিনীর ঐতিহ্য বিবেচনায় নিয়ে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে তারা আরও গবেষণা ও জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au