চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পা দিয়েছে। যুদ্ধবার্ষিকীর দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর ঘোষিত “যুদ্ধের লক্ষ্য” অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে একই সময়ে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় জাপোরিঝঝিয়ার একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এক ঘটনায় একটি ড্রোন নয়তলা আবাসিক ভবনের পাশের একটি কারখানা ভবনে আঘাত হানে। এতে সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাইকোলাইভেও সোমবার রাতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন ইউক্রেনীয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শান্তি আলোচনা কোথায় দাঁড়িয়ে?
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। পুতিন তখন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন সরকারকে “নিরস্ত্রীকরণ” ও “নাজিমুক্ত” করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
আক্রমণের চার দিনের মাথায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ইস্তাম্বুলে ইউক্রেন, রাশিয়া, তুরস্ক ও জাতিসংঘের উদ্যোগে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা বৈশ্বিক খাদ্যসংকট এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ছিল যুদ্ধের প্রথম বছরে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি।
২০২২ সালের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় জি-২০ সম্মেলনে জেলেনস্কি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দেন। এতে ইউক্রেনের সব ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। তবে মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রস্তাবিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়। সেখানে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতায় সীমা আরোপ এবং কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল বলে জানা যায়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফার বৈঠকও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। ছবিঃ রয়টার্স
যুদ্ধের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া—নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে।
২০২৪ সালের আগস্টে ইউক্রেন রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রুশ ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাশিয়া দাবি করে, তারা কুর্স্ক পুনর্দখল করেছে; তবে ইউক্রেন তা অস্বীকার করে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যান।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, দেশটি ধীরে ধীরে বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের কারণে জনঅসন্তোষ প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা যায়।
অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। সামরিক ব্যয় অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, আয় কমেছে। তবুও বহু রুশ নাগরিক প্রকাশ্যে মত দিতে অনিচ্ছুক এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনেই মনোযোগ দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় নেতারা হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে ইউক্রেন-সমর্থন ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বুদাপেস্ট মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও কিয়েভের জন্য ঋণ প্যাকেজে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের জন্য নতুন ৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
চেরনোবিল অঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত
যুদ্ধের প্রভাব থেকে ইউক্রেনের খুব কম অঞ্চলই রেহাই পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার স্থান চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের তেজস্ক্রিয় নিষিদ্ধ এলাকাও যুদ্ধের প্রভাবের বাইরে নেই। সেখানে সামরিক চলাচল ও সংঘর্ষের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ালেও সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। সামরিক সংঘর্ষ, সীমিত কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au