পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ২০ মে- সিলেট টেস্টে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ২–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- শুধু পুরুষ ও ‘প্র্যাকটিসিং মুসলিম’ প্রার্থীদের আবেদন চেয়ে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন নিয়োগনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কী ছিল বিজ্ঞপ্তিতে
গত ২৬ জানুয়ারি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পদে নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে কেবল পুরুষ ও ‘প্র্যাকটিসিং মুসলিম’ প্রার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়। বিষয়টি সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আলোকে বৈষম্যমূলক দাবি করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন আইনজীবী অনামিকা নাহরিন।
আইনজীবীদের মতে, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ সীমিত করা দেশের বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী। সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রয়েছে, এ ধরনের শর্ত তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালতের নির্দেশনা
হাইকোর্ট রুলে জানতে চেয়েছেন, দেশে লিঙ্গ ও ধর্মনিরপেক্ষ বৈষম্যহীন নিয়োগনীতি কেন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না। এ বিষয়ে সরকার ও ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
রুলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত সরকারকে তিনটি নির্দেশ দিয়েছেন—
১. সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তদন্ত করে বৈষম্যমূলক শর্ত প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে।
২. সরকারি ও বেসরকারি সব কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন নিয়োগের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে।
৩. এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত কেবল নির্দিষ্ট একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি; বরং বৃহত্তর পরিসরে বৈষম্যহীন নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও দৃষ্টি দিয়েছেন। তাঁর মতে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সংবিধান ও বিভিন্ন বিধিবিধানে সমঅধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বেসরকারি খাতেও বৈষম্যহীনতার নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়। তবে সময় সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিঙ্গ বা ধর্মভিত্তিক শর্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রণয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এখন আদালতের রুলের জবাব ও সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au