ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ে নিশ্চিত হলো আর্সেনালের শিরোপা
মেলবোর্ন, ২০ মে- ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। বোর্নমাউথের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে…
মেলবোর্ন, ২০ মে- স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন চিকিৎসক সংগঠনের নির্বাচিত প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটিজ অ্যান্ড নট-ফর-প্রফিটস কমিশন জানায়, রয়্যাল অস্ট্রালেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডা. শর্মিলা চন্দ্রনকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বোর্ড সদস্যের পদ থেকে সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের কর্মক্ষেত্র স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা সেফওয়ার্ক এনএসডব্লিউর নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কলেজের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হলেও ডা. শর্মিলা চন্দ্রন সেই নির্দেশনা অমান্য করে লিখিতভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এর ফলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা তাৎক্ষণিক এবং গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
দীর্ঘদিন ধরে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধের জেরে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। গত মাসে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে পুলিশ পর্যন্ত ডাকা হয়।
এই সাময়িক বরখাস্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটি নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। দুই বছর ধরে ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর আগামী ২৯ মে বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে ডা. শর্মিলা চন্দ্রনের কলেজটির প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জেনিফার মার্টিনের মেয়াদ মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত ভোটাভুটিতে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ সপ্তাহ আগেই তাকে অপসারণ করা হয়। ওই ভোটাভুটির আয়োজন করেছিলেন ডা. শর্মিলা চন্দ্রন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার স্বামী নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশকে ফোন করেন।
জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব আলাদা করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ছিল ডা. শর্মিলা চন্দ্রন ও অধ্যাপক জেনিফার মার্টিনের মধ্যে। অন্য অনেক মেডিকেল কলেজের মতো এই দুই পদ আলাদা করার পক্ষে ছিলেন মার্টিন।
চলতি বছরের মার্চে রয়্যাল অস্ট্রালেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস কর্মক্ষেত্র স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়। সেফওয়ার্ক এনএসডব্লিউ তখন জানায়, কলেজটির বোর্ডের কার্যক্রমের মধ্যে ক্ষতিকর আচরণের ঝুঁকি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি।
পরে ৫ মে সেফওয়ার্ক এনএসডব্লিউ একটি নিষেধাজ্ঞামূলক নোটিশ জারি করে। সেখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া বোর্ড সদস্যদের কলেজের অন্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটিজ অ্যান্ড নট-ফর-প্রফিটস কমিশন বলেছে, ডা. শর্মিলা চন্দ্রনকে তার দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সেফওয়ার্ক এনএসডব্লিউ এবং কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তারপরও তিনি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কর্মীদের সঙ্গে লিখিত যোগাযোগ চালিয়ে যান।
তবে নিজের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ডা. শর্মিলা চন্দ্রন।
এর আগে মার্চ ও এপ্রিলে কলেজটির কয়েকজন বোর্ড সদস্য কমিশনের কাছে পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যদিও তখন সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। পরে এই মাসের শুরুতে কমিশন কলেজটির বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
চিকিৎসকদের অনেকেই কলেজটির অভ্যন্তরীণ এই সংঘাতকে ‘রাজকীয় বিশৃঙ্খলা’ এবং ‘চরম অগোছালো পরিস্থিতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রয়্যাল অস্ট্রালেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ৩২ হাজারের বেশি চিকিৎসকের সংগঠন। হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, রক্তরোগ ও পরিপাকতন্ত্রসহ ৩৩টি বিশেষায়িত শাখার চিকিৎসকরা এর সদস্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের জন্য এই কলেজের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক এবং এজন্য প্রতিবছর বড় অঙ্কের ফি দিতে হয়।
গত বছরের আগস্টে কলেজটির বোর্ড সদস্যদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ডা. শর্মিলা চন্দ্রনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট পাস হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বৈরী ও অসম্মানজনক আচরণ এবং বোর্ডে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরির অভিযোগ আনা হয়।
পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ডা. শর্মিলা চন্দ্রন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। একই চিঠিতে তিনি জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে কর্মক্ষেত্রে হয়রানিবিরোধী অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে অবশ্য অধ্যাপক জেনিফার মার্টিন ও কলেজটির বিরুদ্ধে করা সেই মামলা তিনি প্রত্যাহার করে নেন।
গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না ফেয়ার ওয়ার্ক সত্যিকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে। এটি অস্ট্রেলিয়ার মানুষের জন্য সঠিকভাবে কাজ করছে না।’
সোমবার রাতে কলেজটির বোর্ড সদস্যদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে জানানো হয়, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডা. শর্মিলা চন্দ্রন ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বোর্ড সদস্য, পরিচালক এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
বোর্ড আরও জানায়, তারা অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটিজ অ্যান্ড নট-ফর-প্রফিটস কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে এবং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক মানদণ্ড মেনে চলবে।
এদিকে কমিশনের কমিশনার অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে অ্যাডজাঙ্কট অধ্যাপক সুসান প্যাসকোকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম চ্যারিটিজ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কলেজ বোর্ড তাকে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি এখনও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হবে না।
অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটিজ অ্যান্ড নট-ফর-প্রফিটস কমিশন জানিয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ শেষে যদি তারা নিশ্চিত হতে না পারে যে কলেজটি সুশাসনসংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে, তাহলে ডা. শর্মিলা চন্দ্রনের বরখাস্তের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে স্থায়ীভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তি পদ থেকে অপসারণ বা কলেজটির বিরুদ্ধে আরও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au