নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিসরের ইঙ্গিত—দেশের অন্তত ১৫ জেলায় খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ভারতীয় অন্যতম শক্তিশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দু গতকাল তাদের একটি বড় সংবাদ শিরোনাম করেছে “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক পরিষদ পরিসর তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার একদিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালে দেশের অন্তত ১৫টি জেলায় আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয় পুনরায় খোলা হয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতা-কর্মীরা ভোরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন, স্লোগান দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই স্থান ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার এই দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা প্রথম খুলে দেওয়া হয়। ১৮ মাস আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে এই কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। নির্বাচনের পরদিন সকালে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতীকীভাবে কার্যক্রম চালান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির বড় জয় সত্ত্বেও দেশের রাজনীতিতে বিরোধী শক্তির উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে একটি নীরব সহনশীলতা তৈরি হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও মাঠপর্যায়ে দলটির উপস্থিতি ফের দৃশ্যমান হওয়া ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় কার্যালয় খোলা এবং প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
– দ্য হিন্দু