সাবেক উপদেষ্টারা ‘মব আতঙ্কে’ সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা বর্তমানে সরকারি বাসভবন ছাড়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করছেন। দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গৃহীত সিদ্ধান্ত ও গত সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহ-যেমন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণপিটুনি, মাজার ভাঙচুর, দলমত নির্বিশেষে নির্যাতন-জনরোষ সৃষ্টি করেছে। ফলে সাবেক কর্মকর্তারা নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি বাসভবনে থাকার পক্ষেই অনীহা দেখাচ্ছেন।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বহু মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে। মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। কারাগারে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক বন্দীও রয়েছেন।
সরকারি বাসভবন ছাড়ার বিষয়ে আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে বাসা ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে; বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হবে। এরপর কেউ সরকারি বাসা ব্যবহার করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়বেন এবং গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করবেন। আবাসন পরিদপ্তর চলতি মাসে বাসা খালি হলে তা মেরামত ও রং করে নতুন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ৪৯ জন, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১০ জন এবং প্রধানমন্ত্রী একজন। সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৩৭টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দযোগ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ বরাদ্দ থাকবে।
পরিস্থিতি এবং সাবেক উপদেষ্টাদের অনীহার মধ্যে সরকারি বাসভবন ব্যবস্থাপনাকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই আবাসন পরিদপ্তরের চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, চলতি মাসে সবাইকে পর্যায়ক্রমে বাসা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।