গ্রামপুলিশ নিয়োগে ৩৮ জনই অকৃতকার্য। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রামপুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় সবাইকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে নিয়োগ বাছাই কমিটি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে চারটি ইউনিয়নে মহল্লাদার পদে গ্রামপুলিশ নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এ কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন এবং সবাই পরীক্ষায় অংশ নেন।
পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। উচ্চতা, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য মানদণ্ড পরীক্ষা শেষে তাঁদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়। নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সব প্রার্থীকে জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এ জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। কারও লেখায় বানান ভুল ছিল, কারও লেখায় একাধিক লাইন বাদ পড়েছে, আবার কেউ পুরো গানই সম্পন্ন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
ফলে কোনো প্রার্থী ন্যূনতম মান অর্জন করতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কমিটি। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রার্থীদের শিক্ষাগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আবার অনেকে বলছেন, গ্রামপুলিশের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান ও জাতীয় চেতনার বিষয়ে সচেতনতা থাকা জরুরি।
অন্যদিকে অনেকেই নিয়োগ কমিটির কড়াকড়িকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা হওয়াই উচিত। দায়িত্বশীল পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ের পর মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশের প্রতি ন্যূনতম ধারণা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে।
প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।