ঢাবিতে ভোররাতে নারীকে ‘হেনস্তা'। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ভোররাতে দুই নারীকে ‘হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনা বুধবার ভোররাতে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তদের একজন বাঁশের লাঠি হাতে এক নারীর দিকে লাথি মারার চেষ্টা করছেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে চার শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় দুই নারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলছেন। এক নারী বলছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা সেফ না। আমাদের ড্রেসে লেখা আছে প্রস্টিটিউট।’
প্রক্টর জানান, নারীরা সেহরির পর টিএসসিতে আসার সময় তাদের সঙ্গে থাকা রাইডারকে চড় মারা হয় এবং তাদের গালাগাল করা হয়। অপর নারী বলেন, ‘আমি কি এখানে আসতে পারব না?’
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার ইসলাম তুষার (বিজয় একাত্তর হল) এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রাকিব আহমেদ সোহান (জিয়া হল)।
শাহরিয়ার দাবি করেন, নারীদের সঙ্গে থাকা পুরুষের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হলেও তিনি কোনো নারীর উপর হাত তোলেননি। রাকিবও বলেছেন, তিনি লাঠি তুললেও কাউকে আঘাত করেননি। তাদের মতে, নারীরা ও তাদের সঙ্গীরা নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল এবং কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম এসে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে নারীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে একজন পুরুষকে হেলমেট দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। নারীদের আঘাত হয়েছে কিনা, তা আরও সতর্কভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা নিজে লিখিত অভিযোগ দেননি, তবে তাদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি একজন রাইডার ও একজন নারীদের বন্ধু হিসেবে প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেহরির পর টিএসসিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কয়েকজন যুবক বারবার জিজ্ঞাসাবাদ, মৌখিক গালাগাল ও হেলমেট দিয়ে হামলা চালায়।
তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।